আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুর পৌর নির্বাচনে বিএনপির ৭ দফা দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

সময় : ৫:২০ অপরাহ্ণ , তারিখ : ৩০ এপ্রিল, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

মাহবুব হাসান টুটুল,মেহেরপুর প্রতিনিধি:মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে স্থগিত দুটি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ট পরিবেশে পুনরায় ভোট গ্রহণ ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি। রবিবার দুপুরে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন জেলা বিএনপি সভাপতি মাসুদ অরুন।লিখিত বক্তব্যে মাসুদ অরুন সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও জেলার কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্য হুবোহু তুলে ধরা হলো- মেহেরপুর পৌর  নির্বাচনের সকল বিষয় আমার মেহেরপুর বাসীর মত আপনারাও নিশ্চয়ই অবগত আছেন। এই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন কেবল মাত্র কোন একক প্রার্থীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। আপনারা লক্ষ্য করেছেন নির্বাচনের পূর্বরাত্রীতে যখন একদল সন্ত্রাসী বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনাতাই এবং একটি বিশেষ প্রতীকে সিল মারায় ব্যস্ত ছিল ঠিক একই সময় মেহেরপুর পৌর এলাকায় বিনা কারণে সকল বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দিয়ে সন্ত্রাসীদের বেআইনি কাজকে আরও সহজ সাধ্য করে দেওয়া হয়েছে। যার কোন ব্যাখ্যা মেহেরপুর বাসীর কাছে নেই। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে মধ্যরাত্রীর পূর্বেই ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং একটি বিশেষ প্রতীকে সিল মারার ঘটনা সংঘটিত হইলেও উক্ত বিষয়ে কোন প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক মেহেরপুর থানায় কোন জিডি বা মামলা করা হয় নাই বা আইন শৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় কোন ছিনতাইকৃত ব্যালট পেপার উদ্ধারের বা ঐ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে কোন অভিযান পরিচালিত হয় নাই। আমরা মনে করি এই সকল দুর্বলতার কারনে নির্বাচনের দিন ঐ সকল সন্ত্রাসীরা প্রতিটি কেন্দ্রে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং পৌরসভা নির্বাচনকে একটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত করে।উপরোল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার গণ নির্বাচনের দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করা সত্তে¡ও তিনি কোন আইন গত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। এমনকি ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং ব্যালট পেপার একটি বিশেষ প্রতীকে সিল মারার ঘটনা জানা সত্তে¡ও প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে যোগসাজসে প্রকৃত ঘটনা গোপন করিয়া প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেন। যা অত্যন্ত হতাশা জনক। যার প্রমাণ হয় পোলিং বুথে প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার সরবরাহ করিতে না পারিয়া এক পর্যায়ে ১১ এবং ১২নং কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করিতে বাধ্য হয়। একই অবস্থা অন্যান্য কেন্দ্রে থাকলেও সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া আচরণের কারণে প্রকৃত ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসতে না পারাই নির্বাচনি কর্মকান্ডে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগের রাত্রীতে ছিনতাইকৃত এবং সিল মারা ব্যালট বিভিন্ন কেন্দ্রের ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়। যা মেহেরপুর বাসী’র মত আপনারাও প্রত্যক্ষ করেছেন।এই সকল বিষয় উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই আমরা বৈধ ব্যালট যাচাই বাছাই পূর্বক ভোট পুনঃ গনণার আবেদন রিটার্নিং অফিসার সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে করেছি। যেহেতু এখনো মেহেরপুর পৌরসভার ১১ ও ১২নং ভোট কেন্দ্রে পুনঃ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচন কে সুষ্ঠু ও নিরোপেক্ষ করার জন্য আমরা নি¤œলিখিত দাবি নামা পেশ করছি।

প্রসঙ্গত, গেল ২৫ এপ্রিল মেহেরপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে তাতে সিল মেরে বাক্সে ঢোকানোর অভিযোগ মেহেরপুর উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার। বাকি ১৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে ১হাজার ৩৬৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।

 

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top