আজ : মঙ্গলবার, ২৭শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মেয়েদের বিশ্বাসঘাতকতা বাড়ছে, কিন্তু কেন?

সময় : ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২৬ মার্চ, ২০১৭


পুরুষদের বিশ্বাসঘাতকতাই বেশি আলোচনার বিষয়, কিন্তু মহিলারাও কম যান না। স্যান ডিয়্যাগোর এক থেরাপিস্টের বক্তব্য, বিবাহিত জীবনে সুখ ও তৃপ্তি না পেলে মহিলারা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। তিনি একটি গবেষণাও করেন। দেখা যায়, ৬০% পুরুষ বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মহিলাদের পার্সেন্টেজটাও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। অন্তত ৫৫% মহিলা বিয়ের পর অন্য কোনও পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আর এই বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কগুলো সবসময় শারীরিক অতৃপ্তির কারণে হয় না। মাঝেমধ্যে কোনও শারীরিক সম্পর্কই গড়ে ওঠে না। থাকে মানসিক নির্ভরশীলতা।

যেমন ধরুন, এখন বিবাহবহির্ভুত বা সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনও সম্পর্ক তৈরি হওয়ার ব্যাপারে ওয়েব দুনিয়া দারুণভাবে মদত দেয়। হাজার একটা চ্যাচিং অ্যাপ রয়েছে। কোনও অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হওয়া অসম্ভব ব্যাপার নয়। হতে পারে সেই ব্যক্তি একই শহরের বাসিন্দা নয়। কিন্তু দিনের পর দিন যোগাযোগ ও কথাবার্তা চলার কারণে মানসিক নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। ফলত, শরীরিকভাবে লিপ্ত না হয়েও সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। সেটিকেও ইনফিডেলিটি আখ্যা দেওয়া যেতে পারে।

যে ৪টি কারণে মহিলারা বিশ্বাস ভাঙে?

1. সম্পর্কে সুখ না থাকলে, শান্তি না থাকলে মহিলারা হাঁপিয়ে যেতে পারে। অনেকে মুখ বুজে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আগেকারদিনে মা-ঠাকুমাদের আমলে যেটা হত। কিন্তু আধুনিকাদের কাছে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, তারা কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে আপোস করে না। অনেকক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসে। কেউ আছে, খোলাখুলি আলোচনা করে সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা মিটমাট করার চেষ্টা করে। আরেকটা ক্লাস আছে, নির্বিকার থেকে আড়ালে অন্যকোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এদিকও রক্ষা করে, ওদিকও রক্ষা করে। দু’নৌকায় পা দিয়ে চলতে চলতে কেউ কেউ আবার ধরাও পড়ে যায়। কিন্তু বিচক্ষণ মহিলারা খুব সন্তর্পণে এগিয়ে নিয়ে যায় দুটি প্যারালাল সম্পর্ক। এদের বাহবা দেওয়ার কিছু নেই। এরা আসলে ভীরু প্রকৃতির মানুষ। স্বার্থপরও। স্বামী / বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনাই করে না। পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চায় না ভাবমূর্তি হারানোর ভয়ে।

2. বিয়ে বা সম্পর্কের কিছু বছর পরও যাদের মধ্যে আগের মতো সেই মাখোমাখোভাবটা থাকে, তারা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। কিন্তু অধিকাংশক্ষেত্রে তেমনটা ঘটে না। বিয়ের ২-৩ বছর পর কিংবা সম্পর্ক অনেকদিন পর্যন্ত টিকে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে যায় কারও কারও ক্ষেত্রে। জীবনের রোজনামচার জাতাকলে হারিয়ে যায় স্ফুলিঙ্গ। অনেক কাপলের মধ্যে সেক্সটাই হারিয়ে যায়। এমন সময় অন্য নারী বা পুরুষের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার একটা ঝোঁক তৈরি হতে পারে। মহিলাদেরও আকর্ষণ করে অন্য পুরুষ। তাই বিশ্বাসঘাতক হওয়ার এটা একটা বড় কারণ।

3. কথায় বলে পুরুষদের নাকি প্রেমের ব্যাপারে আবেগ কম, আকর্ষণ বেশি। আর মহিলাদের দুটোই বেশি। কিন্তু সম্পর্কে থাকাকালীন মহিলারাও মাঝেমধ্যে নিজেকে ইমোশনালি কানেক্ট করতে পারে না। এর কারণ হতে পারে সঙ্গীর পারফরম্যান্স। যৌনভাবে তৃপ্ত না হলে অনেক মহিলাই ছিটকে যায়। অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এর থেকে জন্ম নেয় পরপুরুষের প্রতি আগ্রহ ও বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক।

4. কিছু কিছু মহিলার মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা বেশি। সঙ্গী বিশ্বাসঘাতকতা করলে মহিলারা সাধারণত সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করে, বা একান্ত না হলে সম্পর্কটাকে আবার নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু একশ্রেণির মহিলা এসব কোনওটাই করে না। সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নেয় পালটা বিশ্বাসঘতকতা করে।

কী করে এই সমস্যা মিটবে?

কোনও মহিলার যদি একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার স্বভাব হয়, তবে সে ব্যাপারে খোলাখুলি আলোচনা করা খুব দরকার। এরা আসলে দায়িত্ব নিতে ভয় পায়। সম্পর্কে জড়ালে একে অন্যের প্রতি কিছু দায়দায়িত্ব চলে আসে। কমিটমেন্ট চলে আসে। এসবে তাদের দম আটকে যায়। ফলত, কোনও একজন বিশেষ পুরুষকে কথা দিয়ে কথা রাখতে পারে না। সেখানেই সে বিশ্বাসঘাতক। এমন পরিস্থিতিতে সকলের কাছেই সে ছোটো হয়ে যায়। ফলত, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় একটাই – কোনও সম্পর্কে না জড়ানো। বা বেশ কয়েকদিন একা থাকা। সিঙ্গলহুড অনেকসময় অনেক কিছু শেখায়। জীবনে একজন প্রকৃত বন্ধু ও কাছের মানুষের কতখানি প্রয়োজন শেষায় সিঙ্গলহুড। নিজের মনকে শান্তু করা সবার আগে দরকার। না হলে, সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। কাউকে ভালো লাগলে সঙ্গীকে সেটা বলা দরকার। বললে, অনেকটাই হালকা হওয়া যায়। লুকিয়ে কাউকে ভালো লাগলে, তার মধ্যে যে আকর্ষণ কাজ করে, বলে দিলে অনেকসময় সেই আকর্ষণ মিটে যেতে পারে। ফলত, আলোচনাটা মাস্ট!

Top