আজ : রবিবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধাপরাধের আরো ১৭ মামলা আপিলে, ৭ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি

সময় : ৫:৫৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২০ মে, ২০১৭


ঢাকা : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলে আরো ১৭ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

special
পর্যায়ক্রমে এসব আপিল মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্র। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউ চেয়ে আনা ৭ টি মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তি হয়েছে। চূড়ান্ত ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউ চেয়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আনা আবেদনও গত ১৫ মে চূড়ান্ত নিস্পত্তি হয়েছে। রায়ে সাঈদীর ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদন্ড কমিয়ে আপিলে দেয়া আমৃত্যু কারাদন্ডের রায়ই বহাল রয়েছে।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২৯ তম মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ২৯ তম মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রেখে গত ৯ মে আদেশ দেয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এর আগে আরো ২৮ মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা মামলার আসামীদের মধ্যে রয়েছেন-জামায়াতের সাবেক এমপি আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জন। অন্যান্য আসামিরা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। এ ছয়জনের মধ্যে মো. আব্দুল লতিফ কারাগারে আছে, বাকী পাঁচজন পলাতক রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলের ১৭টি মামলার আসামিরা হলেন- জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান ও এটিএম আজহারুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ও সাবেক এমপি পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার, চাপাইনবাবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটু, বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ও খান আকরাম হোসেন, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহের, কিশোরগঞ্জের এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক, জামায়াত দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য, পরে বিএনপি ও জাপা নেতা সাখাওয়াৎ হোসেন এবং কিশোরগঞ্জের মোসলেম প্রধান।

১৭ টি আপিলের মধ্যে আব্দুল জব্বারকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া আমৃত্যু কারাদন্ডের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে। অন্য ১৬ টি আপিল মামলায় আসামিরা তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া দন্ডের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন।

Top