আজ : সোমবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৮ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যে কোন মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সময় : ৬:৪৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৭ এপ্রিল, ২০১৭


মো: হায়দার আলী, গোদাগাড়ী, রাজশাহী: নিয়ন্ত্রণহীন মাদক বাণিজ্য

এবং ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি ভয়াবহ সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার জন্ম

দিয়েছে। মাদকাসক্তি ও মাদক বাণিজ্যের কুফল প্রত্যক্ষ করে দেশের সর্বত্র

মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা এবং গণপ্রতিরোধের সামাজিক আন্দোলনও

শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহের তরফ

থেকেও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের কার্যক্রম চলছে।

এমনকি দেশের সর্বত্র স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা মাদক বিরোধী সামাজিক

আন্দোলনের সাথেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা ও একাত্মতা

প্রকাশের খবর সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।

এতকিছুর পরও মাদকের রমরমা বাণিজ্যে কোন ঘাটতি দেখা যাচ্ছেনা। মাদক

বিরোধী প্রচারণা ও তৎপরতায় সামাজিক-রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে

এক ধরনের সমন্বয়হীনতা ও শুভঙ্করের ফাঁক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত

রিপোর্টগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মাদক কেনাবেচার স্পট এবং

মাদক পাচারের রুটসহ কোথায় কারা কারা জড়িত তার বিবরণসহ তালিকা

প্রকাশিত হলেও বছরের পর বছর ধরে অব্যাহতভাবে এবং ক্রমবর্ধমান হারে মাদকের

কারবার চলে কিভাবে? তালিকা হাল নাগাদ হয়না অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু বরণ করা

পরেও মাদক স¤্রাটের তালিকায় নাম থকে। দেশের কিছু থানার ওসিসহ

এসআই, এসআই দের সাথে মাদক ব্যবসায়ী শখ্যতাও রয়েছে তারা রীতিমত

তালিকা তৈরী করে বখরা আদায় করা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি যারা মাদক

ব্যবসা করে অঙ্গল পুলে কলা গাছ হয়ে পরে সব কিছু হারিয়ে পূর্বের

অবস্থায় থাকলেও মাদক স¤্রাটের তালিকায় তাদের নাম থেকে যায়। আবার

যাদের অবস্থা ছিল নুন আন্তে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা ছিল তারা করতো

কামলা গিরি, বাদম, ডিম বিক্রেতা, রিক্রা ভ্যান চালক, ঘাটের মাঝি তারা

আজ মাদক ব্যবসা করে শূন্য থেকে কোটি পতি হয়েছেন তারা এখন পুলিশ

এর সাথে শখ্যতা গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ নির্বাচনে কালো টাকা

প্রভাব খাটিয়ে হয়েছেন মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য।

সংগত কারণে তার আইন শৃংখলা বাহনির ধরা ছোয়ার বাইরে। সারাদেশে

মাদকসেবীর সংখ্যা ৭০ লাখে পৌঁছেছে। এ তথ্য একটি বেসরকারি সংস্থার।

তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি মাদকসেবীর সংখ্যা ৫০ লাখের

কাছাকাছি। দুই সূত্রেই বলা হয়েছে, মাদকসেবীদে মধ্যে ৮০ শতাংশই

যুবক। তাদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আর

অধিকাংশই এখন ইয়াবায় আসক্ত। মাদকের থাবা প্রতিহত করতে সরকারি

উদ্যোগের দৃশ্যত কোনো অভাব নেই। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-

শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক দৃষ্টি থাকে মাদক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। মাদক

নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আলাদা দপ্তরও আছে। তারপরও এর আগ্রাসন কিছুতেই

ঠেকানো যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মাদকের

ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে বলেছেন, মাদক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে

পরিণত হওয়ায় কঠোর আইন প্রয়োগ করেও মাদক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে

হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করতে না পারলে মনে হয় হেরে যাব। তবে আমরা

হারতে চাই না। মানুষ সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদকদ্রব্য

নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা অসম্ভব বলে জানান তিনি। এটি একটি

গুরুত্বপূর্ণ ও সার্বজনীন প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এবং

মাদকের নেটওয়ার্ক নির্মূল করা দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন-

শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু সর্ষের ভেতর ভূত থাকলে ওঝার

পক্ষে ভূত তাড়ানো কঠিন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবশালী থেকে

শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণীর সদস্য এবং স্থানীয়

পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে গড়ে উঠেছে মাদকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও

সিন্ডিকেট। মাদক বাণিজ্যের কোটি কোটি টাকা প্রতিদিন ভাগ-

বাটোয়ারা হয়ে এই সিন্ডিকেটকে আরো শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য করে তুলছে।

দেশে এখন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন সংঘাত-সহিংসতা না থাকলেও

পারিবারিক-সামাজিক অপরাধ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও অতীতের

যে কোন সময়ের চেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এ ধরনের সামাজিক

পরিস্থিতির পেছনে মাদক বাণিজ্য, মাদক সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের

সম্পৃক্ততা সুস্পষ্ট। সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে

জঙ্গিবাদী হুমকি ও নেটওয়ার্ক ধ্বংসে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর

পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও জঙ্গিবাদের চেয়েও ভয়াবহ ও দৃশ্যমান সামাজিক হুমকি

হয়ে ওঠা সত্ত্বেও মাদকের ভয়ঙ্কর নেটওয়াকের বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতা তেমন

উল্লেযোগ্য নয়। মাদক সন্ত্রাসীরা বছরের পর বছর ধরে বাধাহীনভাবে তাদের

নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে করতে এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে খোদ অস্ত্রধারী

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপর আক্রমণ করতে শুরু করেছে। অত্যন্ত দু:খ

জনক হলেও বাস্তব সত্য রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি

ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শামসুজ্জোহা বেলাল (৪০ কে চার পিস ইয়াবাসহ

মোহনপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। বেলালের পিতার নাম আব্দুর রহমান।

মোহনপুর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, অধ্যক্ষ বেলালের পকেটে

থাকা ৪ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতারের পর তার তথ্যমতে পুলিশ মাদক

ব্যবসায়ী হাবিব ও তার স্ত্রী রোখসনার বাড়ী থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

করা হয়। গত ১৮ মার্চ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩

ছাত্রকে গাঁজা রাখার অভিযোগে হল থেকে আজীবন বহিস্কার করা হয়। এরা

হলেন, শাহীনুর রহমান মিম, প্রান্তিক ও রাতুল। সবাই সিএসই অনুষদের

তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০১ কক্ষের

আবাসিক ছাত্র ছিল। এদিকে এইচ এসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী মাদক

মাদক ফেনী সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হয়ে এক আনসার

সদস্য নিহত এবং ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শুধুমাত্র কুমিল্লা ও ফেনি সীমান্তেই দুই শতাধিক পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে

মাদক চোরাচালান হচ্ছে বলে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়। গত ৬ মাসে

এই সীমান্তে বিজিবি’র হাতে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার মাদক আটক হলেও

মাদকের ভয়াবহতা মোটেও কমেনি। বাংলাদেশের তিনদিক ঘেরা ভারতের সাথে

আড়াই হাজার কিলোমিটার স্থলসীমান্তের শত শত পয়েন্টে সব ধরনের মাদক,

আগ্নেয়াস্ত্রসহ নানা ধরনের অবৈধ সামগ্রীর চোরাচালান হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াবাসহ এমফিটামিন জাতীয় মাদকের ব্যবহার

বেড়ে যাওয়ার পেছনে কক্সবাজার নৌরুটে ও মিয়ানমার সীমান্ত অন্যতম

মাদকরুট হয়ে উঠেছে। বলাবাহুল্য, চালান হওয়া মাদকের খুব সামান্যই

বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়। আন্তর্জাতিক

গণমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশের সূত্র উল্লেখ

করে বলা হয়, সারা বছর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়া মাদকের

পরিমাণ মোট চালান হওয়া মাদকের শতকরা ১০ ভাগের বেশী নয়।

গীমান্তপথে বছরে কোটি কোটি ইয়াবা টেবলেট দেশে প্রবেশ করছে।

সেই সাথে খোদ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা তৈরীর

কারখানা গড়ে উঠছে। লাখ লাখ তরুণ-তরুনী ইয়াবা, হেরোইন, সিসা, মদ,

গাজা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পরিবার ও সমাজকে

বিশৃঙ্খল করে দিচ্ছে। এগুলো পুরনো খবর। সর্বশেষ নতুন খবর হচ্ছে, ওষুধের

কাঁচামাল হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিউডো এফিড্রিন নামক শক্তিশালী

একটি ড্রাগের দেড় হাজার কেজির বিশাল মজুদ রয়েছে দেশের ৯টি

আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের হাতে। এর এক কেজি কাঁচামাল দিয়ে চার লাখ

ইয়াবা টেবলেট প্রস্তুত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শত শত

কোটি ইয়াবা টেবলেট তৈরীর উপযোগী কাঁচামাল জব্দ ও ধ্বংস না করার

ঘটনাও রহস্যজনক। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মত মাদক চোরাচালানও একটি

আন্তর্জাতিক সমস্যা। তবে বিশ্বের দেশে দেশে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে

বিশেষ বাহিনী গঠনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ধরনের প্রস্ততি ও তৎপরতা

দেখা যায় বাংলাদেশে নেই।

উপরন্তু বাহ্যিকভাবে যতই মাদক বিরোধী প্রচারণার কথা বলা হোক না কেন,

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী সদস্য থেকে স্থানীয় পর্যায়ের

নেতাকর্মীরা বিশাল মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে তারা মাদকের

টাকায় সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলছে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর

মাদক বিরোধী অভিযান যেন ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র মত। প্রতি

মাসে লাখ লাখ পিস ইয়াবাসহ কোটি কোটি টাকার মাদক ধরা পড়লেও এর

নেপথ্যের হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আর হাতে নাতে যারা

ধরা পড়ছে তারাও পুলিশের দুর্বল চার্জশিটের সুযোগে জামিন নিয়ে

বেরিয়ে গিয়ে অথবা আইন-শৃঙখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে মাদক

ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব

বিবেচনায় সারাবিশ্বেই মাদক চোরাচালানের মত অপরাধ সর্বোচ্চ শাস্তির

আওতাভুক্ত। পত্র-পত্রিকায় মাদকের নেটওয়ার্ক ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে

সুনির্দিষ্ট তথ্যাবলী প্রকাশিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও

তাদের তথ্য রয়েছে এবং মাঝে মধ্যে অনেকে ধরাও পড়ছে। কিন্তু দৃষ্টাষ্টমূলক

শাস্তি না হওয়ায় তা’ কমছেনা। এদিকে গত ১২ এপ্রিল রাজশাহী Ñ ১

আসনের এমপি, সাবেক সফল শিল্প প্রতিমন্ত্র্ধীসঢ়; আলহাজ্ব ওমর ফারুক

চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী আফিসে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি

হিপজুল আলম মুন্সিকে সর্তক থাকার জন্য নির্দেশ দেন যে আপনার পুলিশ

সব সময় মোফা কাউন্সিলার এর অফিস পাহারা দেন। কারণ কি? কোনভাবে

মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়া হবে না। এরা দেশ জাতী সমাজের শ্রুত্রু।

কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা কর্মচারীরা মাদক ব্যবসায়ীদের

বাড়ীতে রাতে টীম নিয়ে হানা দেন ৩/৭ লাখ টাকা বখরা দাবী করে করেন না

দিতে ইউপি সদস্য জৈনক মাদক স¤্রাট শরিফুল কে জামিনদার পুলিশ বাড়ী

ত্যাগ করেন পরদিন ব্যাংক ওই মাদক স¤্রাট টাকা উত্তোলন করে জামিনদাদের

নিকট পৌঁছে দেন। জামিনদার যদি ওই পুরিশের সাথে ভাগ বাটোয়ারা

করেন এ যদি হয় প্রতিদিনের মাদক বিরোধী পুলিশি অভিযান তবে মাদক

গোদাগাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের মাদক বন্ধ হবে কি করে। এ চিত্র দেশে প্রায় সব

জায়গায়। পুলিশের আইজিপি মহোদয় একাধিক সেমিনারে কিছু

দুর্নীতি বাজ পুলিশ কর্মকর্তা, যারা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যুক্ত তাদের

ব্যপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। প্রধান মন্ত্রী জন

নেত্রী শেখ হাসিনা মাদকের ব্যপারে জিরো টলারেন্স এর কথা উচ্চারণ করছেন

একাধিক বার।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বলেন,

মাদকসেবীর নিখুঁত পরিসংখ্যান করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে

বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে তারা মনে করেন এই সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে।

মাদকদ্রব্য ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশির দশকে ছিল হেরোইনের

আগ্রাসন। ওই দশকের শেষ দিকে ফেনসিডিল ভয়াবহ ত্রাস হিসেবে

আবির্ভূত হয়। নব্বই দশকের শেষদিকে ইয়াবার আগমন ঘটে। মাদক নিয়ন্ত্রণ

অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্ঘলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে ফেনসিডিল চালান

অনেকটা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এখন ইয়াবার থাবায় আক্রান্ত দেশের প্রায়

প্রতিটি এলাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক সাইনবোর্ড

ব্যবহারকারী ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্ক থাকায় তারা যা ইচ্ছা তাই করার

সুযোগ পাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলার, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে

পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি কোনো কোনো সংসদ সদস্যের

সঙ্গেও রয়েছে মাদক ব্যবসার সম্পর্ক। রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা,

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এমনকি আরো উচ্চপর্যায়ে বিতরণ

করা হয় মাদক ব্যবসার বখরা।

সীমান্তে বিজিবি এবং দেশের অভ্যন্তরে র‌্যাব-পুলিশ মাদক চোরাচালান ও

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন না করলে মাদকের

ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজ ও জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

Top