আজ : শুক্রবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতন

সময় : ৮:১১ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১১ আগস্ট, ২০১৭


ভোলার দৌলতখানে সালমা (২১) নামের এক গৃহবধূকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার সালমা এখন ভোলা সদর হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তিনি উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের উত্তর জয়নগর গ্রামের ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী ও ভোলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাঠালী এলাকার সাহেব আলীর মেয়ে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ সালমা অভিযোগ করেছেন, যৌতুক না পেয়ে তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের নির্দেশে শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর ও ননদ তাকে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে দৌলতখান উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের উত্তর জয়নগর গ্রামের বেপারী বাড়ির শাহে আলমের ছেলে ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী ইব্রাহিম খলিল। বিয়ের দুই মাস পর বাবার কাছ থেকে যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান ইব্রাহিম খলিল। সেখান থেকে যৌতুকের বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন।

সালমা কলেন, “যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় গত সোমবার রাতে ঘরের একটি রুমে আটকে রেখে শ্বশুর শাহে আলম, শাশুড়ি হালিমা বেগম, দেবর আকবর ও ননদ বিউটি বেগম ঘরের দরজার ঢাসা দিয়ে আমাকে অমানুষিকভাবে পিটিয়ে আহত করে। পরদিন সকালে তারা আমাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমি চিৎকার দিলে বাসস্ট্যান্ডের বাস শ্রমিক ও স্থানীয়দের সহায়তায় আমি ভোলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাঠালী এলাকায় বাবার বাড়ি আসি।
তারা আমাকে মঙ্গলবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সমস্ত শরীর ব্যাথার যন্ত্রণায় এখন রাতে ঘুমাতে পারছি না। ”

তবে, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে গৃহবধূ সালমার শ্বশুর শাহে আলম ও দেবর আকবর আজ শুক্রবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, “সালমাকে নির্যাতন করা হয়নি। সালমার স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে স্থানীয় একটি ছেলের সঙ্গে তার পরকিয়া প্রেম রয়েছে। ওইদিন ওই ছেলের সঙ্গে সে নিজের ইচ্ছায় পালিয়ে গিয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাতে চাচ্ছে। ”

দৌলতখান থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, “এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top