আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রপ্তানির ৯ গুণ আমদানি: চা শিল্প হুমকিতে

সময় : ৩:৪৪ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৪ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে রপ্তানির প্রায় ৯ গুণ বেশি আমদানি করায় দেশীয় চা শিল্প হুমকিতে পড়েছে। এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা শিল্পের বিকাশ ও উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে চা আমদানি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০ লাখ কেজির মতো চা রপ্তানি হলেও একই সময়ে এক কোটি ৭৪ লাখ কেজিরও বেশি চা আমদানির ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন কোম্পানি। এক বছর আগে পুরো বছরে এক কোটি চৌদ্দ লাখ কেজি চা পাতা আমদানি হয়েছিল। দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমিয়ে আনতে চা বোর্ড কাজ করছে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে, দেশীয় উৎপাদন যত বাড়বে আমদানির পরিমাণ ততই কমে আসবে।

সূত্র মতে, সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গে মোট ১৬২টি বাগানে চা উৎপাদন হয়। গত বছর এসব বাগানে সাড়ে আট কোটি কেজিরও বেশি চা উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে পুরো বছরে পঞ্চাশ লাখ কেজির মতো চা বিদেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু একই সময়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে এক কোটি পনের লাখ কেজির মতো চা। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে চা রপ্তানিতে কিছুটা গতি আসে। দেশে চা উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চা রপ্তানি বাড়ছে বলে ধারণা করা হয়।

বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ লাখ কেজির মতো চা পাতা রপ্তানি হয়। কিন্তু আমদানির হিড়িক শুরু হলে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন নামি কোম্পানিগুলো ছয় মাসে প্রায় এক কোটি চুয়াত্তর লাখ কেজি চা আমদানির জন্য ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছে। অথচ এসময়ে চা রপ্তানি হয়েছে বিশ লাখ কেজির মতো। দেশের চা রপ্তানিতে বেহাল অবস্থা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি, মানুষের ক্রয় মতা বৃদ্ধি ও খাদ্য অভ্যাসে পরিবর্তনজনিত কারণে চা ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চা রপ্তানির পরিমাণ কেবল কমে আসছে। ২০১০ সালের আগে চা রপ্তানি এক কোটি কেজির বেশি থাকলেও ওই বছর থেকে রপ্তানি এক কোটি কেজির নিচে নেমে যায়। কোন বছর ৫০ লাখ কেজি, কোন বছর ৬০ লাখ কেজি, কোন বছর ৭০ লাখ কেজি চা রপ্তানি হয়। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে চা রপ্তানি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। রপ্তানিতে এক সময় শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের চা রপ্তানি খাত এখন বেশ নাজুক। রপ্তানির চেয়ে বহু বেশি গুণে আমদানি করে দেশীয় চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

চা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ২০১০ সালে বাংলাদেশ চা আমদানি করে ৪১ লাখ ৩০ হাজার কেজি। এর পর থেকে তা বাড়তে থাকে। ২০১৩ সালে দেশে রেকর্ড এক কোটি ৬২ হাজার কেজি চা আমদানি হয়। চা আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি ও দেশীয় উৎপাদন বাড়তে থাকায় আমদানিও কমতে থাকে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে চা আমদানি ৭০ লাখ ৭০ হাজার কেজিতে নেমে আসে। কিন্তু এবছরের প্রথম ছয় মাসে এক কোটি ৭৪ লাখ কেজিরও বেশি চা আমদানির ছাড়পত্র সংগ্রহ সংশিহ্মষ্টদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। চা উৎপাদন ও রপ্তানিতে সরকারের তরফ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই উৎপাদন বাড়ছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানি কমার কথা। কিন্তু একই সাথে আমদানিও বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সেক্টরটিকে নিয়ে নতুন করে কর্মপন্থা নির্ধারণের সময় এসেছে বলেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন বাগান মালিক জানান, ২০১৬ সালে প্রায় সাড়ে আট কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এবছরও উৎপাদন আরো বাড়বে। উৎপাদন বাড়লেও ভালোমানের চা উৎপাদনে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো অগ্রগতি সাধন করতে হবে। বর্তমানে দেশীয় বাগানেই গ্রিন টি, অর্থডক্স টি, আদা টি, তুলসী টি, সাতকরা টি, হ্যান্ডমেইড টি, অর্গানিক টিসহ নানা ধরনের চা উৎপাদিত হচ্ছে। যা ক্রমে দেশে চা আমদানির উপর প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top