আজ : রবিবার, ২৫শে জুন, ২০১৭ ইং | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রমরমা ব্যবসা

সময় : ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৮ মে, ২০১৭


আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে নিম্নমানের বে-সরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে সরকারী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না সাধারণ রোগীরা। গোটা জেলায় গড়ে উঠা নিম্নমান ও অনুমোদনহীন বে-সরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োগকৃত দালালরা রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করে।

সরে জমিনে দেখা গেছে, সরকারী হাসপাতাল গুলোতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা রোগীদের ভালো চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করছে। কিন্তু রোগীদের কাঙ্খিত সেবা তারা দিতে পারছে না। এতে এক দিকে রোগীরা টাকা হারাচ্ছেন, অন্য দিকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালালেও তাদের অসাধু কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী এসব সিন্ডিকেটের অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্য চলছেই।

জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় চলে দালাল চক্রের শোডাউন-পাল্টা শোডাউন। কখনো কখনো সরকারী হাসপাতালের রোগী নিয়ে দালালদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তবে কথিত বড় ভাইদের নির্দেশনায় আবার সব কিছুই এক সময় ঠিক হয়ে যায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে এসব হাসপাতাল ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসা বাণিজ্যের অনেক ভয়ঙ্কর তথ্য। হাসপাতালকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেও অনেক রোগী চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব হয়েছেন অথবা ভুল চিকিৎসায় জীবন দিয়েছেন। হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি গ্রামের আব্দুস জব্বার বলেন, তার ছেলের গর্ভবতী বউকে হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। ডাক্তার দেখে কোনে চেষ্টা না করেই বলে দিলো পেটে বাচ্চার অবস্থা ভালো নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিজার করতে হবে। তা না হলে মা-বাচ্চাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগের মেডিকেলের এক কর্মচারী নিজেই আমার কাছে এসে বিভিন্ন পরার্মশ দেয়া শুরু করলেন। তার পরামর্শে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচের বিনিময় সিজার করেছি। সময় মত আমার ১৫ হাজার টাকার কমিশন পেয়ে গেলো ওই মেডিকেল কর্মচারী ও ডাক্তার।

কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট এলাকার সমসের আলী বলেন, ১৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। স্থানীয় এক এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি কিছু মেডিকেল পরীক্ষা দেন। সে গুলো স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করি। রিপোর্টে রক্তে কোনো কিছুই ধারা পরে নাই। দুই দিন আগে রংপুরে এসে আবার ডাক্তার দেখে আরও কিছু মেডিকেল পরীক্ষা করে দেখি আমার রক্তে এক ধারণের ভাইরাস আক্রামন করেছে। দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই রকম রিপোর্ট। তাহলে আমি কোনটি অনুসরণ করে চিকিৎসা নিবো ?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ আমিরুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর একটি প্রাথমিক তালিকা রয়েছে। আমরা নিয়মিত তা মনিটরিং করে থাকি। এ ছাড়া কোনো অভিযোগ পেলে বা নিজ উদ্দ্যেগে অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করি। কেউ আইন না মেনে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুললে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Top