আজ : শুক্রবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৭ ইং | ১০ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলন

সময় : ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


মাহবুব হাসান টুটুল,মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর

Loading...

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা ফাতেমাতুজ্জোহরা বিদ্যালয়ে

অনুপস্থিত থাকার পরেও বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে । ছুটি

ছাড়াই তিনি প্রায় ৩ মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তার বেতন উত্তোলনে সহায়তা করছেন বলে

অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া

হবে বলে জানান গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

সহকারী শিক্ষকা ফাতেমাতুজ্জোহরা গত ৬ জানুয়ারী থেকেই অদ্যাবদি (১৪/০৩/১৭

পর্যন্ত) বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় ৫ জানুয়ারী

পর্যন্ত তার স্বাক্ষর রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায়

আনুপস্থিত দেখা যায়। তবে তিনি ছুটি গ্রহণ করেননি। এমনকি বিদ্যালয়

কর্তৃপক্ষ জানে না তিনি কবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবেন। ক্ষমতার বলে তিনি

বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত বলে জানান স্থানীয়রা। এতদিন ধরে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও

তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা অফিস। উপরন্ত জানুয়ারী মাসে তার

বেতন প্রদান করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

জানতে চাইলে রাইপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার

বলেন, তিনি কোথায় আছেন, কি অবস্থায় আছেন তা আমি জানিনা। তিনি

ছুটি নেননি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে।

শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গত ১৬ ফেব্রয়ারী সহকারী শিক্ষা অফিসার শফিকুর রহমান বিদ্যালয়ে

পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি নজরে পড়ে। তিনি হাজিরা খাতায় ফাতেমাতুজ্জোহরার

সাক্ষরের ঘরে অনুপস্থিত লিখে দেন। কিন্তু এর পরেও কিভাবে জানুয়ারী মাসের বেতন

পেলেন সে প্রশ্নের সদুত্তোর মেলেনি শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদ সভাপতি জাকির হোসেন জানান, তিনি বেশ কয়েকবার

ওই শিক্ষককে হুশিয়ার করে দেয়ার পরও কর্ণপাত করেন না।

এদিকে সোমবার ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সেলিনা খাতুনকেও সকাল দশটা

পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন অভিভাবক জানান, অনৈতিক প্রভাব

বিস্তার করে সহকারী শিক্ষক ও ফাতেমাতুজ্জোহারা ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে আসেন। তারা

পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা

নিতে পারে না। ফাতেমাতুজ্জোহরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হলেও সেলিনা

স্বেচ্ছাচারিতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রতিদিনই

নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিদ্যালয়ে আসেন এবং ছুটির আগেই বিদ্যালয়

ত্যাগ করেন। এ দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা।

শিক্ষক ফাতেমাতুজ্জোহরার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন খোঁজ

পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়ি বানিয়াপুকুরে তিনি নেই বলেও জানান পরিবারের

লোকজন।

গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এহসানুল হাবীব জানান, তিনি

শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়টি না জেনেই বেতন সিটে স্বাক্ষর করেছেন। এখন

অবগত হবার পর তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে নেয়া হবে

বিভাগীয় ব্যবস্থা।

Top