আজ : সোমবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সবক্ষেত্রেই এগিয়েছি, আরও এগিয়ে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

সময় : ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২৩ মার্চ, ২০১৭


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নয়, আমরা মাথা উঁচু করে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। সবক্ষেত্রেই এগিয়েছি, আরও এগিয়ে যাবো। নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশবরেণ্য ১৫জন ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পদ্মাসেতু দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ দিয়ে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করা হয়। কিন্তু কোনো দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, কানাডার কোর্টেই এই রায় হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজস্ব খরচে সেতু নির্মাণ করছি। বাংলাদেশকে যে আর অবহেলা করা যায় না, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এর মধ্য দিয়ে সেই শিক্ষাই পেয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে। হতদরিদ্রের হার কমেছে, লেখাপড়ার হার বেড়েছে। আমরা স্কুল, কলেজসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। দেশ যাতে এগিয়ে যায়, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেজন্য সব পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাজেট বাড়ানো হয়েছে। এবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। সকলের বেতন বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২৩ ভাগের মতো। পৃথিবীতে কোনো দেশ এক সাথে এতো বেতন কখনও বৃদ্ধি করে না, যা আওয়ামী লীগ সরকার করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৬৬ সালে ৬ দফা উত্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এই ৬ দফা। আর জন্য বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। ৭০ এর নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ। তারপরও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার শপথ গ্রহণ করে। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। সেই সরকার যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে। আমরা বিজয়ী হই। আমরা বিজয়ী জাতি।’

এর আগে ১৫জন ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হলো, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) শামসুল আলম বীর উত্তম, আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নজমুল হক, মরহুম সৈয়দ মহসিন আলী, শহীদ এন এম নাজমুল আহসান, শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী।

সংস্কৃতিতে অধ্যাপক এনামুল হক ও ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল। সমাজসেবায় খলিল কাজী ওবিই, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে শামসুজ্জামান খান ও অধ্যাপক ললিত মোহন নাথ (প্রয়াত) এবং জনপ্রশাসনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

Top