আজ : শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং | ৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সাঁওতালপল্লীতে আগুনে সরাসরি জড়িত দুই পুলিশ

সময় : ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ০৯ মার্চ, ২০১৭


ঢাকা: গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য সরাসরি জড়িত বলে হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) গোলাম ফারুক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অগ্নিসংযোগে সরাসরি জড়িত ছিলেন গাইবান্ধা পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও গোবিন্দগঞ্জ থানার কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসাইন।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নথিভুক্ত করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ আরেকটি আদেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলাম ও গোবিন্দগঞ্জের চামগাড়িতে ওই দিন দায়িত্বরত ওই থানার সব পুলিশকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়।

গত ৩১ জানুয়ারি গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহীদুল্লাহ ৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবেদনে কতিপয় পুলিশ সদস্য এ আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দূর থেকে ভিডিও ক্লিপ দেখে পুলিশদের শনাক্ত করা গেলেও তাঁদের নাম জানা যায়নি। ওই পুলিশদের শনাক্তের বিষয়ে ৭ তারিখ আদালত কী আদেশ দেন, সেটাই দেখার বিষয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে প্রতিবেদনের কিছু অংশ জানা গেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিও ক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে কিছু পুলিশ সদস্য এবং দুজন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যাঁরা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি। তবে তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি।

এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগে পুলিশ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

ওই নির্দেশ অনুযায়ী গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম ঘটনার তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

Top