আজ : বৃহস্পতিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড : তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে

সময় : ৩:৫৬ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২১ মার্চ, ২০১৭


সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে র‍্যাব। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাবের এএসপি মহিউদ্দিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত র‍্যাবকে ২১ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২ মে দিন ধার্য করে দিয়েছেন আদালত।

র‍্যাবের এএসপি মহিউদ্দিন জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্তের মাধ্যমে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। আদালত সূত্র বলছে, পাঁচ বছরে ৪৭ বার সময় নিয়েও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি র‍্যাব। তদন্তের এই ব্যর্থতা নিয়ে নিহত সাগর-রুনির পরিবার ও স্বজনেরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঠানো আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলে মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে এর আগে র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। এখন সেসব প্রতিবেদন র‍্যাবের হাতে। কিন্তু সেখান থেকে পাওয়া দুজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ বহনকারী ব্যক্তি এখনো শনাক্ত হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত সাংবাদিক দম্পতির চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলছে গ্রিলকাটা সন্দেহভাজন চোর ও ডাকাতের বিষয়েও। এ ঘটনায় গ্রেফতার মোট আটজনের মধ্যে ছয়জন এখনো কারাগারে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পুলিশকে তদন্ত শেষ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন পাঁচ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ৯ অক্টোবর ‘চমক দেওয়া’ সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরেও মামলার কোনো সুরাহা হয়নি।

২০১৪ সালের আগস্টে আদালতে দেয়া মামলার তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‍্যাব জানায়, হত্যার স্থান থেকে জব্দ করা আলামতগুলোর মধ্য থেকে ছুরি, ছুরির বাঁট ও বঁটিতে খুনির আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায় কি না, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া সাগর ও রুনির পরনের কাপড়, যে কাপড় দিয়ে সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল, গ্রিলের অংশ, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুল, ভাঙা গ্রিলের পাশে পাওয়া মোজা, দরজার লক, দরজার চেইন, ছিটকিনি রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে পাঠানো হয়। মামলায় গ্রেপ্তার করা আটজনসহ, সন্দেহভাজন ও নিহত সাগর-রুনির নিকটাত্মীয়—এ রকম মোট ২১ জনের লালা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, সাগর-রুনির স্বজন, সহকর্মীসহ মোট ১৫০ জনের জবানবন্দি নিয়েছে র‍্যাব।

এরপর ২০১৫ সালের ৭ জুন আদালতে দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‍্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে ফরেনসিক ও রাসায়নিক পরীক্ষার পর সেখান থেকে দুজন অজ্ঞাত পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ বৃত্তান্ত পাওয়া গেছে।

বিগত বছরের ২ অক্টোবর আদালতে জমা দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‍্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে চুরি হওয়া ল্যাপটপ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা জানার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রালাপ অব্যাহত আছে।

Top