আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সু চি’র সমালোচনা এবং নিন্দায় সরব হয়েছে গোটা দুনিয়া

সময় : ৪:২৩ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

মিজ সু চি-কে তারা এমন একটি আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন, যেখানে খুব কম মানুষ স্থান পায়। কিন্তু অং সান সু চি’র সমালোচনা এবং নিন্দায় এখন সরব হয়েছে গোটা দুনিয়া।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে অং সান সু চী। তাঁকে অনেকেই বর্ণনা করতেন গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।
তিনি যখন দীর্ঘসময় গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তাঁর মুক্তির জন্য অনেকেই সরব হয়েছিল।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র কামী মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সম্মানীয় এবং পূজনীয় একজন ব্যক্তিত্ব।
অনেকেই ভেবেছিলেন, সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে তাঁর দল ক্ষমতায় আসলে দেশের পরিস্থিতি আমূল বদলে যাবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতী ও ধর্মীয় গোষ্ঠী তাদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারবে।
কিন্তু পরিস্থিতি এতোটাই উল্টোদিকে মোড় নেবে সেটা অনেকে ভাবতেই পারেন নি।
পশ্চিমা দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে অং সান সু চি ছিলেন একবিংশ শতাব্দীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক।
মিজ সু চি-কে তারা এমন একটি আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন, যেখানে খুব কম মানুষ স্থান পায়।
কিন্তু অং সান সু চি’র সমালোচনা এবং নিন্দায় এখন সরব হয়েছে গোটা দুনিয়া।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন এবং বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগের পর হাজার-হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসেবে গত আট মাসে প্রায় এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার রোহিঙ্গা নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে গত দশ দিনে এসেছে ৯০ হাজার।
বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন অং সান সু চি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে আছেন তিনি। তবে ঘরের চাপ এক ধরনের এবং বাইরের চাপ অন্য ধরনের।
গত একমাস যাবত মিয়ানমারে অবস্থান করছেন ভারতের সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক।
প্রায়ই তিনি মিয়ানমারে যাতায়াত করেন। সেখানকার রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহলে কথাবার্তা বলেছেন মি: ভৌমিক।
তিনি বলছিলেন, ” এ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চি এবং তাঁর দল দু’তরফ থেকে সমস্যায় পড়েছে। এদিকে পশ্চিমি দুনিয়া, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন … সবাই অং সান সূচীকে লক্ষ্য করে সমালোচনায় মুখর হচ্ছে।”
কিন্তু মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গা বিরোধী তীব্র মনোভাব আছে বলে উল্লেখ করেন সুবীর ভৌমিক।
তারা মনে করে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে রাখাইনরা।
” তাদের একটা চাপ রয়েছে। কোনভাবেই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সাথে কথাবার্তা আলোচনা বা এমন কিছু করা যাবে না যাতে রোহিঙ্গাদের সুবিধা হয়। সেখানে স্বার্থ দেখতে হলে রাখাইনদের স্বার্থ দেখতে হবে,” বলছিলেন সুবীর ভৌমিক।
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জাতিগত ভাবে নির্মূল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজায়ী এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মিয়ানমার বিষয়ক দূত ইয়াংহি লি আহবান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে অং সান সু চি যেন সরব হয়। কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ হবে বলে মনে হয় না।
রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে মিজ সু চি’র সরব না হওয়ার কারণ কী? এটা কী তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top