আজ : রবিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হাটখোলার হরি মন্দিরের মূর্তি চুরি নিয়ে লুকোচুরি

সময় : ৪:০৭ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২১ মার্চ, ২০১৭


নগরীর হাটখোলা এলাকার হরি মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি নিয়ে
চলছে ‘লুকোচুরি’। কোতয়ালি মডেল থানার মাত্র ৫০ গজের (আনুমানিক) মধ্যে থাকা
মন্দিরের সবকিছু রাতের আঁধারে লুট হয়ে গেলেও পুরো বিষয়টি চেপে গেছে মন্দির
কমিটি। সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকা মন্দিরে চুরির ঘটনায় রহস্য ক্রমশ ঘণীভূত হচ্ছে।
মন্দির কমিটির দায়িত্বহীনতা এবং লুন্ঠন হওয়া মালামাল উদ্ধারে থানায় ন্যূনতম একটি
সাধারণ ডায়েরী না করার বিষয়টি রহস্যের ধুম্রজাল বুনে চলেছে। এদিকে ঐতিহ্যবাহী
পুরাতন এ মন্দিরে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ এবং মন্দির কমিটির দায়িত্বশীলদের প্রতি অনাস্থা
জানিয়েছেন ওই মন্দিরের ভক্তবৃন্দসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষেরা। তবে মন্দির কমিটির
দায়িত্বশীলদের রহস্যজনক আচরণে চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে।
চুরির বিষয়ে অতিগোপনীয়তা রক্ষা করায় তা নিয়েও রয়েছে ধুম্রজাল। সব মিলিয়ে হরি
মন্দিরে চুরি নিয়ে সকলের মনে নানা প্রশ্নের বেড়াজাল সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের
বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকিত
বরিশাল জানিয়েছেন, ওই মন্দিরের বর্তমান কমিটি অকার্যকর-অথর্ব। মন্দিরের উন্নয়ন এবং
রক্ষণা-বেক্ষণে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যার্থ তারা। তবে কমিটির পদে থেকে
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুদানের অর্থ আত্মসাতে এগিয়ে আছেন তারা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আনুমানিক গত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কোন এক
রাতে নগরীর বাজার রোড হাটখোলা এলাকায় অবস্থিত হরি মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত
হয়েছে। মন্দিরে থাকা মূর্তি, ঘটি-বাটি, থালা-বাসনসহ ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত স্বর্ণ এবং
পিতলের সব মালামাল চুরি হয়ে যায়। মন্দিরটি অনেক পুরানো এবং বড় হওয়ায় এখানে
দামি আসবাব ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। অথচ কোতয়ালি মডেল
থানার মাত্র ৫০ গজের মধ্যেই মন্দিরটির অবস্থান। এদিকে মন্দিরের ভেতরে-বাইরে ক্লোজ
সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও বসানো রয়েছে। বরিশাল নগরীর পুরাতন এই মন্দিরটির সর্বস্ব
খোয়া যাওয়ায় একদিকে যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তেমনি চুরি
যাওয়া মালামাল এবং চোর ধরতে প্রশাসনের সহযোগিতা না নেওয়ায় কমিটির বিরুদ্ধে
ব্যাপক চটেছেন সবাই। সকলে বলছেন, এত বড় একটি দুর্ঘটনা নিয়ে কমিটির লুকোচুরির
বিষয়টি বেশ সন্দেহজনক। অনেকে বলছেন, কমিটির দায়িত্বশীলরা বদনামের ভয়েই বিষয়টি
চেপে গেছেন। তারা অভিযোগ করেন, মন্দিরের বর্তমান কমিটি একটি অথর্ব কমিটি।
হিন্দু
সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের ওপর নাখোশ হলেও অজ্ঞাত প্রভাবের দাপটে তারা কমিটির পদ
আকড়ে আছেন। কমিটির একাধিক সদস্য ধারণা করছেন, চুরির ঘটনায় কমিটির কেউ কেউ
জড়িত থাকতে পারে। মন্দিরের সর্বস্ব চুরি হয়ে গেলেও প্রশাসনেরও হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়নি
এবং নিজেরাও তদন্ত করছে না। এর দ্বারা কমিটির খামখেয়ালীপনা ও ব্যার্থতাই প্রমাণ হয়।
তবে মন্দিরের ভক্তবৃন্দ তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা মন্দিরে চুরির প্রকৃত রহস্য
উদঘাটন দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top