আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

২০১৮ সালেই দেশ মাছে-ভাতে স্বয়ংসম্পন্ন

সময় : ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১১ মার্চ, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

ঢাকা: ২০১৮ সালের মধ্যে দেশ মাছে-ভাতে স্বয়ংসম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক। তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে উৎপাদন প্রতিবছর বাড়ছে। আমাদেরকে মাছে-ভাতে বাঙালি বলা হয়। আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মাছে-ভাতে স্বয়ংসম্পন্ন হবে।

আজ শনিবার দুপুরে ১১-১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষে রাজধানীর মৎস্য ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘জাটকা ইলিশ ধরব না, দেশের ক্ষতি করব না’ এই প্রতিবাদ্য বিষয় নিয়ে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন সবুজ বাংলাদেশ। তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন নীল বাংলা। আমি অর্থনীতির ছাত্র। সমুদ্রসীমা বৃদ্ধির জন্য তথা নীল বাংলার ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুগ যুগ ধরে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। দেশে মোট মৎস্য উৎপাদনে প্রায় ১১ ভাগই হচ্ছে। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় এক ভাগ। উপকূলীয় মৎসজীবী সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লাখ লোক পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, রফতানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।’

ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার গৃহীত কার্যক্রমসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ফলে বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৯৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময় এক মাস বাড়িয়ে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। জাটকার দৈর্ঘ্য ২৩ সেন্টিমিটার হতে বৃদ্ধি করে ২৫ সেন্টিমিটার করা হয়েছে। কেবল জাটকা রক্ষা নয়, মা ইলিশ সুরক্ষা আইনটি সঠিকভাবে সংশোধনের ফলে নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছে, তাই মেঘনা হতে জাটকা আজ পদ্মা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র, সুরমায় বিস্তার লাভ করেছে।

ছায়েদুল হক বলেন, বর্তমান সরকার জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের দুর্দিনের কথা ভেবে উপকূলীয় জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর আওতায় বিগত ৮ বছরে ভিজিএফ কার্ড সহায়তায় দুই লাখ ৩৬ হাজার পরিবারকে এক লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৯ টন ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। এর আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই লাখ ৩৬ হাজার ১৭৬টি পরিবারকে ৪০ কেজি হারে ৩৭ হাজার ৭৮৮ টন ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। ভিজিএফ চাল দেওয়ার পাশাপাশি জাটকা আহরণে বিরত জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬১৫টি জেলে পরিবারকে তাদের চাহিদানুযায়ী নানা প্রকার উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে ইলিশ রফতানি প্রসঙ্গে মৎস্যসম্পদমন্ত্রী বলেন, অলিগলিতে মানুষ এখন স্বল্প মূল্যে ইলিশ পায়। একবার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন ইলিশ রফতানি করা যায় কিনা। আমি তাকে বলেছি, এই মুহূর্তে ইলিশ রফতানিতে আপনি যাবেন না। এবার জনগণ ভালোভাবে ইলিশের স্বাদ নিক। আগামীতে দেখা যাবে।

ইলিশ আহরণ বন্ধে কারেন্ট জালসহ অন্যান্য উপকরণ নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এটির অনুমোদন হলে সারা দেশে মাছধরার জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে।

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top