আজ : রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

৩ লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে যাজক হলেন পর্নস্টার!!

সময় : ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ০৯ মার্চ, ২০১৭


বিলাসবহুল যাপনের হাতছানি উপেক্ষা করতে না পেরে, স্কুল শিক্ষিকা পেশা বদলে নামী পর্নস্টার হয়ে উঠেছেন, এ কাহিনি আমাদের অজানা নয়। আবার সচ্ছল ভাবে সন্তানকে বড় করে তুলতে, একাকী মা পর্নস্টার হয়ে উঠেছেন, সে গল্পও আমরা শুনেছি।

কিন্তু, আজ এমন এক মহিলার কথা শুনবেন, যিনি হেলায় হেঁটেছেন উলটো পথে। প্রাচুর্যের পিছুটানে বাধা পড়েননি। বিলাসী জীবনের চড়া আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে, ভালো মা হয়ে উঠেছেন।

ইনি ক্রিস্টাল বাসেট। পর্নোগ্রাফির দুনিয়ায় খোঁজ যারা রেখেছেন, তাদের কাছে অবশ্য নাদিয়া হিল্টন নামেই জনপ্রিয় ছিলেন। একশোটিরও বেশি পর্নো ছবিতে তাকে দেখা গিয়েছে। একজন নামী পর্নস্টারের জীবনে যা যা থাকা উচিত, সবই করেছেন। দামী গাড়ি, বিলাসী ফ্ল্যাট এবং আরও আরও যা যা থাকা দরকার…।

হবে নাই বা কেন! একের পর এক অফার। হাতে মোটা টাকা। বছরের হিসেবে আর্থিক অঙ্কটা যথেষ্টই আকর্ষণীয়। তিন লক্ষ মার্কিন ডলার। তার পরেও সবকিছুকে উপেক্ষা করে, নিজেকে বদলেছেন।

প্রায় এক দশক পর্নো দুনিয়ায় কাটিয়ে আসা এই মার্কিন কন্যার নাদিয়া থেকে ক্রিস্টাল হয়ে ওঠার পিছনে যার হাত রয়েছে, আমরা তাকে বলি উপরওয়ালা। হ্যাঁ, ঈশ্বরে ভক্তিই তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। বলছিলেন নিউ ইয়র্কের একদা পর্নস্টার। সেই ঈশ্বর তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন গির্জায়। সেখানেই আলাপ বছর ছাব্বিশের ডেভিডের সঙ্গে। যিনি ছিলেন ওই গির্জারই যাজক।

ধীরে ধীরে প্রেম। পরিণয়। নাদিয়া থেকে হয়ে ওঠা ক্রিস্টাল। তিন সন্তানের মা এই যুবতী এখন নিজেও যাজক, স্বামীরই মতো। তবে, একদিনে নয়। এর জন্য নিজেকে তৈরি করেছেন। যাজক হতে পড়াশোনা করতে হয়েছে তাকে। তার আগে অবশ্য স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন বছর তেত্রিশের এই যুবতী।

মাত্র ১৬’য় সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন ক্রিস্টাল। সন্তানের জীবনের শুরুটা যাতে সুন্দর ভাবে হয়, নর্থ ক্যারোলিনা থেকে হলিউডে চলে আসেন। বাড়ি ভাড়া দিতে শুরু করেন মডেলিং। এরপর এক এজেন্ট মারফত পা রাখেন পর্ন ছবির দুনিয়ায়। মালিবুর একটি বাড়িতে প্রথমবার শ্যুটিংয়ের পর যে অনুভূতি হয়েছিল, তা আজও ভোলেননি। ঝাড়া দু-ঘণ্টা শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলেন। এরপর পরবর্তী একমাস আর ওইমুখো হননি।

ধীরে ধীরে খাপ খাইয়েছেন নিজেকে। ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে, শ্যুটিংয়ে গিয়েছেন। ৯টা ৫টার কাজ ছিল। পরিবার থেকে যে বাধা আসেনি, তা নয়। মেয়ে যে পর্নস্টার, এটা বাবা মন থেকে মানতে পারেননি। প্রচন্ড খেপেছেন। দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবুও সরে আসেননি ক্রিস্টাল। ক্রমশ নীল ছবির দুনিয়ার স্টার হয়ে উঠেছেন।

কিন্তু, ২০১৪’র গাড়ি দুর্ঘটনা তার চিন্তাধারা বদলে দেয়। সেই প্রথমবার উপলব্ধি করেন, অন্য কিছু করতে হবে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শরণাপন্ন হন ঈশ্বরের। সেরে উঠে গির্জায় আসা-যাওয়া। প্রার্থনা। ডেভিডের সান্নিধ্য। নতুন জীবন। তার মধ্যেই আরও দুই সন্তান। স্বামী, তিন সন্তান নিয়ে আজ সুখের জীবন ক্রিস্টালের। অতীত নিয়ে কোনও অপরাধ বোধ নেই। খেদ নেই বিলাসী জীবনের মোহ ত্যাগ করায়।

Top