আজ : শুক্রবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৭ ইং | ১০ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

৭ মাস বন্ধ থাকবে বরিশালে ১১ লঞ্চ ॥ সর্তকতা জারী

সময় : ১২:০৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


বরিশাল ব্যুরো:অশান্ত উপকূলীয় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌ পথে আগামী ৭ মাস বন্ধ থাকবে বরিশালের ১১টি যাত্রীবাহী লঞ্চ। নৌ দুর্ঘটনা রোধে প্রতি বছরের মত এ বছরও অতিরিক্ত সর্তকতা জারী করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ)। তারা ডেঞ্জার মৌসুমে সী-সার্ভে ব্যতিত কোন নৌযান চলাচল করতে না পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ বুধবার থেকে এ অশান্ত মৌসুম শুরু হচ্ছে।
বন্ধ থাকা নৌ-যানগুলো হচ্ছে বরিশাল-ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটের এমবি চন্দ্রদ্বীপ, এমবি উপবন, এমবি সঞ্চিতা-২, এমবি রাজপাখি, এমবি প্রিন্স অব বরিশাল, এমবি জনতা, এমবি গ্রীন ওয়াটার-৫ ও এমবি সোহেলী-১। এছাড়া চর আলেকজান্ডার-দৌলতখান-মীর্জা কালু রুটের এমবি রামগতী এক্সপ্রেজ, এমবি ইমপ্রিয়াল ও এমবি মুঈন। অশান্ত এসব রুটে নৌ সার্ভিস চলাচলের জন্য সী-সার্ভে পেয়েছে এমভি পারিজাত, বিআইডব্লিউটিসির খিজির-৫, খিজির-৭, খিজির-৮ ও এমভি এলসিডি।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক (নৌনিট্রা) ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাগর ও মেঘনার মোহনার উপকূলীয় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথে প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিপদজনক মৌসুম ঘোষণা করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা হেড অফিস থেকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী এমবি শ্রেনীসহ সকাল প্রকারের ছোট নৌযান চলাচলের উপর ওই সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। তারই আলোকে গত ৭ মার্চ বরিশাল জেলা প্রশাসন-পুলিশ সুপার-কোষ্টগার্ড, লক্ষিপুর জেলা প্রশাসন-পুলিশ সুপার-কোষ্টগার্ড ও ভোলা জেলা প্রশাসন-পুলিশ সুপার-কোষ্টগার্ডকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাতে চর আলেকজান্ডার-দৌলতখান, চর আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, চর আলেকজান্ডার-বেতুয়া, চর আলেকজান্ডার-চর জহির উদ্দিন, মনপুরা-তজুমুদ্দিন, মনপুরা-শশীভূষণ উপকূলীয় অঞ্চলে মৌসুমী অশান্ত নৌ-পথে যাত্রীবাহী নৌ-চলাচল বন্ধ রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহনে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ডেঞ্জার মৌসুমে বরিশালের ১১ লঞ্চসহ ছোট লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না বলে তারা জানিয়েছেন। নৌনিট্রা ভোলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডেঞ্জার মৌসুমের জন্য প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখানকার ৭০টি নৌপথে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকা ও ২৩টি লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ এবং ইঞ্জিনচালিত কয়েকশ নৌকা চলছে। যেগুলোর কোনো বে-ক্রসিং সনদ নেই। ফলে নৌ দুর্ঘটনা হ্রাসে এসব নৌযান বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। সূত্র জানায়, এ ৭ মাস নির্ধারিত ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথে বে-ক্রসিং সনদ(সমুদ্রে চলাচল যোগ্য নৌযান) ব্যাতিত অন্য কোন নৌযান চলতে পারবে না। এসময়ে উপকূলীয় যাত্রীদের জন্য বিকল্প নৌযান হিসাবে বিআইডব্লি­উটিসির সী-ট্রাক ও বেসরকারী নৌযান যার সী-সার্ভে রয়েছে তারা চলাচল করবে।
অশান্ত নৌপথের আবুল কালাম আজাদ, নুর-ই আলম, আল-আমিনসহ বেশ কয়েকজন যাত্রীর দাবী, প্রয়োজনের তাগিদেই তারা জীবনবাজী রেখে এ পথে যাতায়াত করেন। নিরাপদ নৌযান চললে তাদের এমন ঝুঁকি নিতে হবে না। তবে এবার দুইটি বেসরকারী নৌযান ও তিনটি সরকারী নৌযান এসব রুটের যাত্রী পরিবহন করবে। ফলে ঝুকিঁ গত বছর গুলোর চেয়ে কমবে বলে যাত্রীরা মনে করেন। তারা আরো বলেন, এসময় নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে। নৌযানের ফিটনেস পরীক্ষা করতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত বৈরী আবহাওয়ায় সতর্কতা জারি করে জানিয়ে দিতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ পরিচালক মোঃ আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, সাগর ও মেঘনার মোহনার উপকূলীয় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথে প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিপদজনক মৌসুম ঘোষণা করা হয়। বৃহত্তর বরিশালে উপকূলীয় নৌপথ হচ্ছে বরিশাল-লক্ষীপুর-মজুচৌধুরীর হাট, ভোলার ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট, ভোলার মীর্জাকালু-নোয়াখালীর চর আলেকজেন্ডার, ভোলার মনপুরা-শশীগঞ্জ রুট। এ রুটগুলোতে সী-সার্র্ভে সনদ ব্যতিত অন্য কোন নৌযান চলাচল করতে পারবেনা। সনদ ব্যাতিত অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করার জন্য নৌযান মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Loading...

Top