আজ : মঙ্গলবার, ২১শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ডুবে যাওয়া এক শহরে


bdbarta24.net সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

বৃষ্টির শুরুটা হয়েছে বৃহস্পতিবার। শুক্রবারও দিনভর বৃষ্টি ছিল, রাতেও হয়েছে। তবে অফিস না থাকায় শুক্রবারের বৃষ্টি উপভোগই করেছে মানুষ। এমন মানুষের দলে ছিলেন সেলিম সাহেব। শুক্রবার দিনভর বৃ্ষ্টি বাড়িতে খিচুড়ি ইলিশ দিয়ে উৎযাপন করেছেন। তবে এমন উদযাপনের মধ্যেও ছিল সংশয়। কালও না অবার বৃষ্টি হয়। তাহলে অফিসে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে।

শনিবার ঘুম থেকে উঠেই আশঙ্কার বাস্তব রূপ দেখলেন সেলিম সাহেব। তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি চলমান এবং বৃষ্টির হার বেড়েছে।

অফিসে যেতে ভোগান্তি হবে এমনটা ভেবে, কিছুক্ষণ আগেই বেরিয়েছিলেন। কিন্তু রিকশা যোগাড় করতেই প্রায় আধঘণ্টা সময় পার। অবশেষে একজন রিকশাওলাকে যেতে রাজি করালেন। শংকর থেকে পান্থপথের মোড়। সেলিম সাহেব পান্থপথের মোড়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

রিকশা ধানমণ্ডি ২৭ এর মাথায় আসতেই সেলিম সাহেবের চক্ষু চড়কগাছ। রাস্তা নাকি মহাসমুদ্র। পানি আর পানি। অনেক জায়গায় উঁচু ফুটপাতও পানিতে নিমজ্জিত। রিকশাওয়ালা বলে বসল, ভাইজান সিটের ওপর উইঠা বসেন। নাইলে পানিতে ভিজবেন। রিকশাওয়ালা রিকশা চালাচ্ছে, প্রায় কোমর পর্যন্ত পানিতে ডুবে। পাশ দিলে বাস গেলে স্রোতের তোড়ে রিকশা পড়ে যায় এমন অবস্থা। আবার দুএকটা প্রাইভেট কার যাচ্ছে সামনের অংশ প্রায় ডুবে গেছে পানিতে।

আগে বের হয়েও বেশ প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে অফিসে পৌছাঁলেন। অফিসে গিয়ে দেখলেন অনেকেই তখনো পৌঁছায়নি।

দুপুরে লাঞ্চের সময় অফিসের অপর কলিগদের সঙ্গে একসঙ্গে বসা। লাঞ্চ খেতে খেতে আলোচনা। আজকের বিষয় একটাই বৃষ্টি। জানা গেল একেকজনের দু:সহ অভিজ্ঞতা। অনেকের বাসার সামনেই কোমর পানি। পানি নামার জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অফিসের বস গাড়ি না আজ রিকশায় এসেছেন। কারণ বাসা থেকে বের হতে হলে তাঁর গাড়ি আজ সাবমেরিন হতো।

কয়েকজন নারী সহকর্মী জানালেন আরও অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা। একজন তো রিকশা উল্টে পানিতে পড়ে গিয়ে আর অফিসেই আসেনি।

এখন সবার চিন্তা বৃষ্টি যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে বাড়ি ফেরা হবে কীভাবে। আর আগামীকাল তো সবার অফিস। তখনই বা কী হবে?

Top