মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের টুইট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের একটি ভিডিওর সঙ্গে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার ছবি যুক্ত করেছেন। শুধু তা–ই নয়, এই ছবি তিনি নিজের সমর্থকদের মধ্যে টুইট করেছেন। তাতে লিখেছেন, ‘আমরা কখনোই ভুলব না।’ট্রাম্পের এই টুইটে ইলহান ওমরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ওমর বলছেন, তিনি কয়েকবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন। হুমকিদাতাদের কেউ কেউ ট্রাম্পের টুইটের কথা উল্লেখ করেছেন বলেও জানান ওমর। ওমরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ডেমোক্রেটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। গতকাল রোববার তিনি এক বিবৃতিতে জানান, ওমরের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ওয়াশিংটন পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ বিষয়টি নজরদারিতে রাখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছে। ওমর সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা থেকে কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন ইস্যুতে ইসরায়েলের সমালোচনা করেন ওমর। এ কারণে তিনি সমালোচিত। পুলিশ বলছে, ওমরকে কয়েকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ওমরকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ নিউইয়র্কে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

ট্রাম্প টুইটে যে ভিডিও ছড়িয়েছেন, তাতে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের এক সভায় ওমরের দেওয়া ভাষণের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করা হয়েছে। এই ভাষণে ওমর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে। এই কাউন্সিল সৃষ্টির কারণই হলো নাইন-ইলেভেনের সময় একদল লোক ‘কিছু একটা’ করেছিল এবং তারপর থেকেই এ দেশের সব মুসলিমের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়। রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেছেন, ওমর নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী ঘটনাকে ‘কিছু একটা’ বলেছেন। এভাবে নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহতার গুরুত্ব তিনি কমিয়েছেন। বেশ কয়েকজন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য ওমরের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই অবস্থানের প্রতিবাদ করেছেন। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ বলেছেন, ‘আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে কংগ্রেসের একজন কৃষ্ণকায় সদস্যের বিরুদ্ধে শারীরিক হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।’ কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান জেরি ন্যাডলার ট্রাম্পের টুইটের সমালোচনা করে বলেছেন, নাইন-ইলেভেন নিয়ে কোনো কথা বলার নৈতিক যোগ্যতা ট্রাম্পের নেই। কারণ, ট্রাম্প নাইন-ইলেভেনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য সংরক্ষিত অর্থ নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে আদায় করে নিয়েছিলেন। তিনি যে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে ওই অর্থ নিয়েছিলেন, সেটির কোনো ক্ষতিই হয়নি। ওমরের মন্তব্য বিষয়ে ন্যাডলার বলেন, ‘নাইন-ইলেভেনের ঘটনাকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য করা হয়। তাদের মানবাধিকার হরণ করা হয়। ওমর সে কথাটাই বলতে চেয়েছেন। নাইন-ইলেভেন আমার শহরের (নিউইয়র্ক) ঘটনা। আমি সে ঘটনার কথা খুব ভালো করেই জানি।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*