নুসরাতের বড় ভাইকে চাকরি দিলো এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক

ফেনীতে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করা মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বড় মাহমুদুল হাসান নোমানকে চাকরি দিয়েছেন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। সোমবার(১৫ এপ্রিল) গনভবনে নুসরাতের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোমানের হাতে ব্যাংকের নিয়োগপত্র তুলে দেন। জানা গেছে, ব্যাংকটিতে ‘ট্রেইনি এসিস্ট্যান্ট অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে নোমানকে। ফেনীর সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলার সূত্র ধরে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা যান। এ সংক্রান্ত মামলা নিয়ে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ ওঠার পর ৯ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের ভার দেয়া পিবিআই ‘কে। এরপর গত শনিবার ঢাকায় পিবিআই প্রধান বনজ কান্তি মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছেন, এবং প্রধান আসামীদের ধরতে পেরেছেন।

‘কেরোসিন কেনে শামীম, ডেকে নেয় পপি, আগুন দেয় জাবেদ’
গতকাল রোববার বিকেল ২টা ৫৫ মিনিট থেকে দিবাগত গভীর রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা নুসরাত জাহান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ‘ঘনিষ্ঠ’ নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তার আগে এ দুজনকে পিবিআই সদর দপ্তর ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফেনীতে নিয়ে আসা হয়। আইন অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নীল কাপড়ে তাদের মুখ ঢেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। জবানবন্দি দেওয়ার পর দুই আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। রাত দেড়টার দিকে গণমাধ্যমের সামনে আসেন পিবিআইর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান। তাঁর সঙ্গে পিবিআই ফেনী ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল পিবিআই এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। চার দিনের মধ্যে আমরা ঘটনার যারা মূল নায়ক, ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছি। পিবিআই সদর দপ্তর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তের ভিত্তিতে শুধু গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্য থেকেই তাদের মধ্যে দুজনকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এ দুজন আসামি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*