আজ : বুধবার, ২২শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত! তদন্তে কমিটি


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে রংপুরের পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. সাইফুর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান।

শুক্রবার রাতে রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর রাতের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বাড়িঘর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় টিনসহ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

এদিকে, রংপুরে অবস্থানরত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পয়ার্য়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত ঠাকুরবাড়ি গ্রামের এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডিতে মহানবী (সা.) কে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিলে এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এনিয়ে পাগলাপীর ও মমিনপুর হাড়িয়াল কুঠিসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশপাশের ৬-৭টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ওই ব্যক্তির গ্রামের বাড়িতে হামলা চালাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নামে সেখানে একজন মারা যান। আহত অন্যদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে ঠাকুরবাড়ি গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

Top