আজ : মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বড়াইগ্রামে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা কৃষকেরা


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
কয়েক দফা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বড়াইগ্রাম উপজেলার আমনের আবাদ। এসব ধাক্কা কাটিয়ে এখন আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে বাজারে ধানের ভালো দাম থাকলেও ফলন ভালো না হওয়ায় হাসি নেই চাষীদের মুখে। ধানের ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার ১৪ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ও ৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ৮-১০ জন কৃষক জানান, এ বছর আমনে প্রতি বিঘায় গড়ে ১০ থেকে ১২ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছে। যেখানে গত বছর হয়েছিল ১৭ থেকে ১৮ মণ। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম প্রতিমণ ১০০০-১১০০ টাকা পর্যন্ত হলেও ফলন ভালো না হওয়ায় কৃষকেরা কাঙ্খিত লাভের মুখ দেখছেন না।

রামাগাড়ী গ্রামের কৃষক আঃ রাজ্জাক জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদ করেছিলেন তিনি। এ কৃষকের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়েছে। তার বিঘা প্রতি গড়ে ১১ মণ হারে ফলন হয়েছে। মামুদপুর গ্রামের চাষী মোবারক হোসেন জানান, তিনি তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধানের আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি ফলন পেয়েছেন ১২ মণ হারে। তার মধ্যে জমির মালিককেই বিঘা প্রতি ৪ মণ হারে ধান দিয়ে দিতে হবে। জালশুকা গ্রামের খোরশেদ আলম পূর্ণি জানান, শুরুর দিকে ধান ভালই হয়েছিল। কিন্তু ধান আধাপাকা অবস্থায় দুই দিনের নিম্নচাপ ও ঝড়ো হাওয়ায় তার জমির অর্ধেকের বেশি ধান মাটিতে পড়ে যায়। এছাড়া কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। বিশেষ করে উপজেলার শ্রীখন্ডী এলাকায় কারেন্ট পোকার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ছিল। এসব কারণেই জমিতে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। এমন ফলন বিপর্যয় শুধু কৃষক তার একার নয়, বরং পুরো উপজেলার শতকরা ৭৫ ভাগ জমিতেই এবার ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল আহম্মেদ বলেন, এবার উপজেলার জুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু শেষের দিকে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানের ফলন কম হয়েছে।

Loading...

আরও পড়ুন...
Top