আজ : বৃহস্পতিবার, ২৩শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূর শ্লীলতাহানি করল এসআই


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

খুলনার দিঘলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মধুসুদন পান্ডের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ধস্তাধস্তির কারণে ওই গৃহবধূ জখমও হন।

বিষয়টি স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সেটিও গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার রাধামাধবপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাছুম মোল্লার বাড়িতে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া থানার এসআই মধুসুদন পান্ডে ও কনস্টেবল তানভীর সাদা পোশাকে গিয়ে হাজির হন।
এসময় মাছুম মোল্লার অসুস্থ স্ত্রী রুমা নাছরিন একা ঘরে ছিলেন। দুই পুলিশ সদস্য তার স্বামীকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। একপর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রুমাকে ঘর থেকে বের হতে বলেন।
রুমা এর কারণ জানতে চাইলে এসআই মধুসুদন পান্ডে ও কনস্টেবল তানভীর টানা-হেঁচড়া করে তার শ্লীলতাহানি ঘটান। এতে ওই গৃহবধূ হাতে জখম হন।
একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য ঘরে থাকা শোকেচের গ্লাস ভেঙে নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করেন। তাদের এমন আচরণে রুমা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
লোকজন উপস্থিত হলে এসআই মধুসুদন ও কনস্টেবল তানভীর দ্রুত চয়ে যান। যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না বলেও হুমকি দেন।
লিখিত অভিযোগে গৃহবধূ রুমা উল্লেখ করেন, এর আগে কনস্টেবল তানভীর নিজের ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে তার স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসআই মধুসুদন পান্ডেও একই নম্বর থেকে কথা বলে টাকা চান। সর্বশেষ সোমবারও তাকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়।
দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা না দিলে পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর স্বামী মাছুম মোল্লা।
তিনি বলেন, পূর্বের দু’টি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসআই মধুসুদন পান্ডে ও কনস্টেবল তানভীর বেশ কয়েকদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করছে। কিন্তু তিনি দিতে রাজি না হওয়ায় তার বাড়িতে হামলা ও স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে তারা। তিনি এর কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে গৃহবধূ রুমা নাছরিন মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী ওয়ালিউল্লাহ সেটি গ্রহণ করেনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পুলিশ সুপার না থাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ রাখা হয়নি। বিষয়টি সরাসরি পুলিশ সুপারের কাছে দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা এ প্রতিবেদককে বলেন, তার অনুপস্থিতিতে কোনো অভিযোগ না রাখার বিষয়ে নির্দেশনা নেই। হয়তো তিনি নেই তাই রাখেনি। তবে এ বিষয়ে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মধুসুধন পান্ডে বলেন, তিনি মাছুম মোল্লা নামে কারও বাড়িতেই যাননি। তবে মাছুম মোল্লা তার নাম করে কয়েকজন জেলের জাল আটকে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি দেখছেন বলেও দাবি করেন।

আরও পড়ুন...
Top