আজ : বুধবার, ২২শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পূর্বাঞ্চলের আন্ডরওর্য়াল্ড এর ডন ছবি চেয়ারম্যান


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

বরিশাল: সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবির বিরুদ্ধে এবার কীর্তনখোলার পূর্বপার বা পূর্বাঞ্চলের আন্ডরওর্য়াল্ড নিয়ন্ত্রনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার কথার বাইরে গেলে পোষ্য কিছু বখাটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা ও মামলা দিয়ে দমন করে থাকে। তবে ছবির ভয়ংকর চরিত্রের দিক সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেন তিনি।

জানা গেছে, আ’লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা তাকে এ ধরনের আক্রমনাত্মক রাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্যও সর্তক করে দেন। সূত্র মতে, সম্প্রতি ছবি চেয়ারম্যান একজন সংবাদকর্মীকে খুনের পরিকল্পনা করছিলেন। তার পোষ্য কয়েকজন ক্যাডার এই খুনে অংশগ্রহন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। তবে সময় ও সুযোগ মত ওই সংবাদকর্মীকে না পাওয়ায় এবং ছবির একটি মোবাইল কথোপকথনের মাধ্যমে বেচে যান কিলিং টার্গেটে থাকা সংবাদকর্মী।

এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ডায়েরী নং ১৮০৯। ডায়েরীর তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতাও পান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সমরিন মন্ডল।

ডায়েরীর তথ্যমতে, (০১৭১১৩৮৮৬৬৯) মোবাইল নাম্বারটি মনিরুল ইসলাম ছবি চেয়ারম্যানের। এই নাম্বার থেকে চলতি বছরের ৩০ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক সোঁয়া ৭টার দিকে ওই সংবাদকর্মীকে কল করে ছবি বলেন, ‘আমি তোকে ও তোর বাবাকে যেখানে পাব সেখানেই মেরে ফেলব।’

জানা গেছে, সংবাদকর্মীকে খুঁজে না পেয়ে শেষে মোবাইলে হুমকি প্রদান করেন। ছবি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই দিনই সেই সাংবাদিককে চরকাউয়া ও বান্দরোড কর ভবনের আশপাশের এলাকায় রেকি করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, উল্লেখিত এলাকার মধ্যে পেলে আক্রমণ করে থাকবে। কিন্তু ওইদিন কিলিং টার্গেটে থাকা সংবাদকর্মী নলছিটিতে থাকায় হত্যার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই মূলত মোবাইলে হুমকি প্রদান করেন ছবি। ওই সংবাদকর্মী জানান, তিনি বর্তমানে প্রাণভয়ে রয়েছেন। একই সাথে তার পরিবারও রয়েছে ঝুকিতে। তার মতে, সংবাদ সংক্রান্ত যদি বিরোধ থেকে থাকে তা আমার সাথে। তাই বলে ছবি চেয়ারম্যান যখন আমার পিতাকে টার্গেট করেছে তখন সত্যিই আমি ভীত হয়ে পরি।

এছাড়াও পূর্বাঞ্চলে মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনাকারীদের একচেটিয়া সর্মথন দিয়ে কমিশনের ভিত্তিতে পরোক্ষ মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন মনিরুল ইসলাম চবি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা রাত নামলে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি করে থাকে। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালালে ছবি চেয়ারম্যান মাদক ব্যবসায়ী ওইসব শ্রমিক নেতাদের পক্ষে দাড়ান।

তেমনি ২০১৬ সালে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা নজরুল ইসলামকে ইয়াবাসহ আটক করে বন্দর থানা পুলিশ। থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবাসহ আটকের পর মনিরুল ইসলাম ছবি আটক নজরুলকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ওসি তার অনুরোধ না রাখলে বলে, তাইলেতো আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে।

ওই সূত্র জানায়, ছবি চেয়ারম্যানের অনুরোধ না রাখার আধা ঘন্টার মধ্যে চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির আওতাধীন বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। শেষে চাপের মুখে ইয়াবাসহ আটক নজরুলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ছবি চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে চরকাউয়ায় মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছেন নজরুল, খোকন, সাঈদ এবং ফিরোজ। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিক ইউনিয়নে নিয়মিতই এই চলে আখড়া।

ওদিকে ২০১৩ সালে চরকাউয়ার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও হামলার নেপথ্যে মদদ দিয়েছিলেন এই চেয়ারম্যান বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এই ঘটনায় সরকার থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহাযার্থে যে অনুদান আসে তার একটি বৃহদাংশ নিজে আত্মসাত করেন-এমন অভিযযোগ তুলে বেসরকারী একটি টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রচার করে।

যদিও এ বিষয়ে কোন কথাই বরতে রাজি হননি মনিরুল ইসলাম ছবি। ৩ নভেম্বর মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে, হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানান। একইসাথে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি না বলে জানান।

সুত্রঃ বরিশাল ট্রিবিউন

Top