আজ : বুধবার, ২২শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সমকামীদের ৭০ শতাংশই যৌন রোগে আক্রান্ত


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

সচেতনতার অভাবে সেক্স মাইনরিটিরা বা সমকামীরা এইচআইভিসহ নানা যৌন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। যৌন মিলনে কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার না করার কারণে সেক্স মাইনরিটিদের (যৌন সংখ্যালঘু) প্রায় ৭০ শতাংশই কোনো না কোনো যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এটা যে শুধু তাদের জীবনকেই বিপন্ন করে তুলছে তা নয়, দেশে এইডসের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
.
পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও পুরুষে পুরুষে যৌন কর্মের বিষয়টি দৃশ্যমান নয়। সরকারিভাবেও এটাকে অস্বীকার করা হয় না। বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৩৭৭ নং ধারা অনুযায়ী এটাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে দেশে যৌন সংখ্যালঘু তথা সেক্স মাইনরিটিরা যৌনকর্মের সময় কোনো প্রকার প্রতিরোধক ব্যবহার করে না। আবার পারিবারিক চাপ ও সমাজিক কারণে এই সম্প্রদায়ের মানুষরা বিয়ে করে সংসারও করে। ফলে তাদের যৌন রোগ তাদের স্ত্রীদের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশে সমকামীদের মধ্যে পাঁচ থেকে দশ শতাংশ এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে সমকামীদের বেশির ভাগই এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও যৌন সংখ্যালঘুদের অনেকেই যে এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে তা স্বীকার করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তারা। এই সংগঠন গত ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশে সেক্স মাইনরিটিদের স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কাজ করছে।

তারা বলছে, বাংলাদেশে যারা পুরুষের সঙ্গে সেক্স করছে তাদের অনেকেই এইডস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই সংগঠনেরই এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশের সেক্স মাইনরিটিদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই এইডসসহ নানা যৌন রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে। এই রোগ আক্রান্তরা যাতে সুস্থ থাকে এবং একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে যাতে রোগ না ছড়ায় সে ব্যাপারে বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে। যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে তারা কিভাবে চলবে, কিভাবে জীবনযাপন করবে সে ব্যাপারে নিয়মিত কাউন্সিলিং দেয়া হয়।

প্রতিরোধের উপায়

যাতে একজন রোগাক্রান্তের কাছ থেকে অন্য জনের কাছে তা না ছড়ায়। তারা এই জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারেও কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, এইচআইভি সম্পর্কে তাদের ধারণা দিতে হবে। যাতে তারা নিজেরাই এইডস প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

একজন মানুষের আচরণ যেমন হোক না কেন, তাদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পায় না।

অনেকে যৌন রোগে আক্রান্ত হলেও ভয়ে ডাক্তারের কাছে যায় না। আবার যারা ডাক্তারের কাছে যায়, সেক্স মাইনরিটি শুনলে তাদের চিকিৎসা না করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে এ সম্প্রদায়ের মানুষরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে সমাজে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এ কারণেই তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি তাদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তথ্য সূত্র: এইচবি

জানা-অজানা

আরও পড়ুন...
Top