আজ : বৃহস্পতিবার, ২৩শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কার হাটে হাড়ি ভাঙবেন সিনহা?


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন থেকে সিঙ্গাপুর এসেছেন। এখানে তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন। ওই হাসপাতালেই সিনহা ক্যানসারের চিকিৎসা করিয়েছিলেন। আগামী ১৩ অথবা ১৪ নভেম্বর বিচারপতি সিনহা দেশে ফিরতে চান। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের একাধিক উর্ধ্বতন ব্যাক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন বিচারপতি সিনহা। আর সরকার যদি সবুজ সংকেত না দেয়, তাহলে সিঙ্গাপুর থেকে তিনি কানাডায় যাবেন বলে বিচারপতি সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন অন্তত দুজন জানিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে বিচারপতি সিনহার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আছেন। এদের একজন বাংলাদেশের একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকার একটি পে অর্ডার করে বিচারপতি সিনহার সোনালী ব্যাংকের সরকারি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন। ওই বাঙ্গালিসহ কয়েক জন বাঙ্গালিকে বিচারপতি সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জুডিশিয়াল ক্যু এর নীলনকশা হয়েছিল। এই নীলনকশার মূল উদ্যোক্তা ছিল এদেশের সুশীল সমাজ এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশ। সম্প্রতি অসুস্থ একজন মেয়রও এই পরিকল্পনার কথা জানতেন বলে বিচারপতি সিনহা তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন। তিনি এও বলেছে, ‘আমি ওই জুডিশিয়াল ক্যু এর ষড়যন্ত্রে পা দেইনি জন্যই তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মনগড়া অরুচিকর অভিযোগ এনেছে।’বিচারপতি সিনহা এও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আমাকে বলা উচিত ছিল। কিন্তু কেউ আমার কাছে কোনো ব্যাখা চায়নি।’ বিচারপতি সিনহা মনে করেন, সরকারের একাংশ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বিরুদ্ধে বিষিয়ে তুলেছে। যারা বিষিয়ে তুলেছে তারাই ষড়যন্ত্রকারী বলে তিনি মনে করেন।

দেশে এসে বিচারপতি সিনহা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের জবাব দিতে চান। সুপ্রিম কোর্টে তাঁর সহকর্মীদের ব্যাপারেও তাঁর অনেক ক্ষোভ এবং অভিমান।

সিঙ্গাপুর থেকে বিচারপতি সিনহা অন্তত দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। তিনি একজন উপদেষ্টাকে বলেছেন ‘সরকারের ওপর আমার কোনো রাগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমার অনেক শ্রদ্ধা। আমি সরকারের কোনো ক্ষতি করব না। আমি তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই, যাঁরা সরকারের বন্ধু সেজে ক্ষতি করছে। আমি তাঁদের হাটে হাড়ি ভাঙব।’

তিনি একজন সাবেক বিচারপতিকে ‘নাটের গুরু’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে লন্ডনে ওই বিচারপতি কি দেন দরবার করেছিলেন।’

সরকারের ওই উপদেষ্টা তাঁকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আমি বিষয়টা দেখছি। তবে, সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিচারপতি সিনহার ইস্যুটা নতুন করে পাদপ্রদীপে আনতে সরকার আগ্রহী নয়। সরকার বিচারপতি সিনহাকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই সিনহা ফিরবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন...
Top