আজ : বুধবার, ২২শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তারেকের গুপ্তচর!


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কুলখানি অনুষ্ঠান। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ নেতৃবৃন্দ। মিলাদের মধ্যেই তাঁর পাশে এসে বসলেন, সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত বিএনপির সাবেক হুইপ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ট ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের সাবেক এই এমপি। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনও। তিনজনই রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বললেন। মিলাদের শেষ হলো বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিদায় নিলেন, এর মধ্যে দুই নেতার কাছেই ফোন এলো। ফোনে দুজনকেই জানানো হলো, মিলাদে তারা কি আলোচনা করছেন সবই ‘ভাইয়া’র কাছে চলে গেছে। তিনজন প্রবীণ নেতা জানতেই পারেননি, তাদের আলোচনার পুরোটাই আঁড়ি পেতে শুনছেন এক গুপ্তচর। যিনি বিএনপিরই কর্মী। তবে তিনি তারেক জিয়ার গুপ্তচর। সঙ্গে সঙ্গেই তারেক জিয়াকে ওই গুপ্তচর কর্মী খবর পাঠিয়েছেন। কি আলোচনা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব শুধু নয়, এরকম সন্দেহভাজন অনেক নেতা এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পিছনে গুপ্তচর লাগিয়েছেন তারেক। এরা কেউ ছাত্রদল, কেউ যুবদল বা কেউ স্বেচ্ছাসেবক দল করেন। বড় কোনো নেতা নন এরা, কিন্তু তারেক তাদেরই বাছাই করেছেন। এরা দলের শীর্ষ নেতাদের কাজ কর্ম পর্যবেক্ষণ করেন। শীর্ষনেতারা কোথায় যান, কার সঙ্গে কথা বলেন – ইত্যাদি খোঁজ খবর রাখেন। মূল বিষয় হলো, ওই সব নেতারা সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছেন কিনা সে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়াই গুপ্তচরদের প্রধান কাজ।

লন্ডন থেকে তারেক জিয়া ওই গুপ্তচরদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। তাদের করণীয় সম্পর্কে ব্রিফ করছেন। শুধু নেতা নন, বেগম জিয়ার কয়েকজন ব্যক্তিগত কর্মচারী, নয়া পল্টনস্থ অফিসের কিছু কর্মচারিও তারেক জিয়ার নজরদারির আওতায়। তারেক জিয়ার ধারণা, এরা সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছে। সরকারের সাজানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। এজন্যই বিএনপির ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতেই এত আয়োজন। আর এইটা নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি এখন প্রকাশ্য। নেতারা মুখ ফুটে কথা বলতে পারছেন না। একজন আরেকজনের সঙ্গে মন খুলে আলোচনাতেই ভয় পাচ্ছেন। নির্বাচনের পক্ষে কেউ জোরে কথা বললেই, পাশের জন সাবধান করে দিচ্ছেন, ‘সাবধান দেয়ালেরও কান আছে’এই আপ্ত বাক্য বলে।

তবে ভেতরের খবর হলো অন্যরকম, বিএনপির কয়েকজন নেতা আপাতত তারেক জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, ভারত সহ উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন পেতে তারেককে বাদ দেওয়ার বিকল্প নেই। বিষয়টি নিয়ে তারা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশও করেছেন। বিএনপির ভেতর এরকম আকাঙ্ক্ষার মেঘ পুঞ্জীভূত হতেই তারেক জিয়া গুপ্তচর প্রথা প্রবর্তন করেছেন।

অবশ্য বিএনপি নেতাদের কাছে তারেকের এই আচরণ নতুন নয়, ২০০১ সালেও মন্ত্রীদের পিছনে তারেক এরকম চর লাগিয়েছিলেন। কোন মন্ত্রী কোন ফাইল থেকে নিলো, কোথায় টাকা পাচার করল – ইত্যাদি খোঁজ নেওয়াই ছিল চরদের কাজ। তথ্য পাওয়ামাত্রই তারেক ওই মন্ত্রীকে হাওয়া ভবনে ডেকে পাঠাতেন। এরপর তাঁর হিস্যা নিতেন।

এখন এই গুপ্তচর লাগিয়ে তারেক কী পান, সেটাই দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুন...
Top