আজ : বুধবার, ২২শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চমকে দিবেন খালেদা জিয়া !!


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

প্রায় দুবছর পর জনসভা করছে বিএনপি। দলটি সর্বশেষ জনসভা করেছে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি। নয়াপল্টনের ওই জনসভায় বেগম জিয়া সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে গেছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দুবছর পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাড়িয়ে বেগম জিয়া নতুন কী বলবেন?

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারির জনসভায় তাঁর পাশে জামাত নেতৃবৃন্দসহ ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ছিল। কিন্তু এবারের জনসভায় ২০ দলের শরীকদের ডাকা হয়নি। বিএনপির নেতারা বলছেন, এটা বিএনপির নিজস্ব কর্মসূচি। বিএনপি কি জামাতের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছে না? এই জনসভায় কি সেই বার্তাই দেওয়া হবে?

অনেকদিন পর বিএনপির কর্মসূচি। তাই সঙ্গত কারণেই কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য থাকবে। শুধু ঢাকা থেকে নয়, ইতিমধ্যেই ঢাকার বাইরে থেকেও কর্মীরা আসা শুরু করেছে। তাই বিএনপি যে একটি ভালো শোডাউন করবে তা বলাই বাহুল্য। এই সমাবেশ বিএনপির দিশেহারা কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে, যা বিএনপির আন্দোলন এবং নির্বাচন দুই যাত্রাতেই কাজে লাগবে।

তবে কালকের সমাবেশের মূল আকর্ষণ অবশ্যই বেগম জিয়া। তাঁর বক্তব্য শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরা নয় দেশবাসীও শুনতে চাইবে। তিনি নতুন কী বলেন সেটাই সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, বেগম জিয়ার ভাষণের তিনটি অংশ থাকবে। প্রথম অংশে তিনি সরকারের সমালোচনা করবেন। বিশেষ করে কথিত দুর্নীতির অভিযোগগুলো সম্পর্কে তিনি বক্তব্য দেবেন। সরকারের সমালোচনায় দুর্নীতি ছাড়াও গুম আতঙ্ক ,ছাত্রলীগ, যুবলীগের কথিত সন্ত্রাসের অভিযোগও প্রাধান্য পাবে বেগম জিয়ার বক্তৃতায়। এই অংশে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন নীতির ইতিবৃত্তও তুলে ধরবেন।

বেগম জিয়া তাঁর বক্তৃতার দ্বিতীয় অংশে তাঁর এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সরকারের ‘তৎপরতা’র বৃত্তান্ত তুলে ধরবেন। বিশেষ করে, সরকার তাঁকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করবেন। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর মামলা নিয়ে বেগম জিয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।

বক্তৃতার শেষ অংশে বেগম জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিএনপির চাওয়া পাওয়া সম্পর্কে বলবেন। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সহায়ক সরকার নয় বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিই কালকের জনসভায় উপস্থাপন করবেন বেগম খালেদা জিয়া। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি হতে পারে কাল বেগম জিয়ার বক্তব্যের মূল উপজীব্য। আর এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রবর্তনের লক্ষ্যে বেগম জিয়া সংলাপ ও সমঝোতার প্রস্তাব দেবেন। প্রতিহিংসা নয় বরং সমঝোতা এবং সংলাপের মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য বেগম জিয়া সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবেন।

বিএনপির এই জনসভা রাজনীতিতে কোনো নতুন ধারার সূচনা করতে পারছে না বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এটা স্রেফ একটা গা গরমের রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবেই গণ্য হবে। ২০১৪ সালের বিএনপি যে চক্রে আবদ্ধ হয়েছিল, ২০১৭ এর শেষে সেই চক্রেই ঘুরপাক খাচ্ছে দলটি।

বাংলা ইনসাইডার

টপিকঃ খালেদা জিয়া

আরও পড়ুন...
Top