আজ : মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

একাই একশো


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আবর্তিত হচ্ছে শেখ হাসিনাকে ঘিরেই। দেশের রাজনীতির কেন্দ্রে তিনি। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন,শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের জয় অনিবার্য। বিএনপি মনে করছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে তাঁদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। জঙ্গি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মনে করে, শেখ হাসিনা থাকলে বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র বানানোর কোনো সম্ভবনা নেই। মুক্তবুদ্ধির মানুষ মনে করেন,শেখ হাসিনাই বাংলাদেশে প্রগতি চর্চার শেষ ভরসা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাই একমাত্র নায়ক, বাকি সবাই পার্শ্বচরিত্র।

আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপে দেখা গেছে, অন্ত:কলহ এবং উপদলীয় কোন্দলই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান সমস্যা। তৃণমূল থেকে বার্তাএসেছে, কোন্দল বন্ধ না করতে পারলে বড় বিপর্যয় হবে। কেন্দ্র থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোন্দল বন্ধ করার জন্য তাঁদের পরামর্শ কী? সব জেলাথেকে একই উত্তর এসেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতির উদ্যোগ। জেলার নেতারা বলছেন, ‘নেত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। নেত্রী ডেকে বলে দিলেই কোন্দলবন্ধ হবে।’শেখ হাসিনাই তাঁদের একমাত্র ভরসা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোন্দল বন্ধে জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকেপর্যায়ক্রমে ডেকে বৈঠক করার। দিন তারিখ চূড়ান্ত না হলেও, আগামী বছরের শুরু থেকেই এটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের গতি আনতে চায়। নির্বাচনী প্রস্তুতি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায়। এব্যাপারে প্রশাসনে বৈঠকের পরবৈঠক হচ্ছে। কীভাবে কাজে গতি বাড়ানো যায়। উত্তর একটাই শেখ হাসিনা। একজন সচিব বলছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু ডেকে বলে দেবেন, তাহলেইদেখবেন, কি দ্রুত সব এগুচ্ছে।’

বিএনপি কি আগামী নির্বাচনে যাবে? বিএনপির যেকোনো নেতাকে প্রশ্ন করলেই এর উত্তর দেবে এরকম ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকলে।’ এমনকিশেখ হাসিনা যদি সর্বদলীয় সরকারও গঠন করেন তবুও আপত্তি বিএনপির। বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা বলছিলেন, ‘ শেখ হাসিনাকেই ভয়।তিনি একাই একশো। তিনি একাই দাবার ছক উল্টে দিতে পারেন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে, উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনাকে নিয়েইআলোচনা হয়েছে বেশি। বিষয়টা এমন, পুরো বিএনপির বিচক্ষণতার চেয়ে শেখ হাসিনার একক বিচক্ষণতা বেশি। বিএনপি তো স্বীকারই করে, ২০১৪ তে আমরা আওয়ামী লীগের কাছে পরাজিত হইনি, পরাজিত হয়েছি শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, এদেশের জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদীরা এখন সিঙ্গল টার্গেট করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সম্ভবত বিশ্বে অন্যতম নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকা সরকারপ্রধান। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরাও জানে, শেখ হাসিনাকে সরাতে পারলেই বাংলাদেশকে বিপন্ন করা যাবে।

বাংলাদেশে যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেন, প্রগতিমনা তাদের বক্তব্য একটাই, আওয়ামী লীগের অনেক সমস্যা, কিন্তু শেখ হাসিনাতেই তাদের ভরসা।রংপুরের সংখ্যালঘুরা বিপর্যস্ত হবার পরও বলছিল, শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন আমরা সাহস পাই।

এই একটা মানুষ এভাবেই এক সুতোয় গেঁথে রেখেছেন বাংলাদেশকে।

Loading...

আরও পড়ুন...
Top