২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

অর্থ আত্মসাৎ করতেই দুলাভাইকে হত্যা করে যুবলীগ নেতা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

জমানো টাকা আত্মসাৎ করতে হত্যা করা হয় প্রবাসী দুলা ভাই ইয়াকুব আলীকে। দেড় বছর আগে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জানে আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক মো. ইফতিয়ার উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্তেরপর সোমবার বিকেলে জানে আলমকে আটক করা হয়েছে। সে উপজেলা সদরের দিশাবন্দ গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক। এছাড়াও মনোহরগঞ্জ বাজারে রড-সিমেন্টের ব্যবসা রয়েছে তার।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২ মার্চ উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশে ডাকাতিয়া নদী থেকে ওমান ফেরত প্রবাসী ইয়াকুব আলীর (৫০) অর্ধগলিত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ইয়াকুব আলী উপজেলার উত্তর হাওলা গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত. আবদুর রশিদের ছেলে।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহতের ছেলে মো. সোহাগ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এক পর্যায়ে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে কুমিল্লার আদালত মামলাটি পিবিআই কুমিল্লাকে তদন্তের নিদের্শ প্রদান করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইতে আসার পর থেকে বাদী পক্ষের লোকদের কাছ থেকে তেমন কোনো সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, তারা মামলাটি নিয়ে তেমন আন্তরিক ছিলেন না, বলতে গেলে এই হত্যার বিচার হোক এমন প্রত্যাশাও করতেন না।

পরে কুমিল্লা জেলা পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওসমান গণির নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক মো. ইফতিয়ার উদ্দিন গোপনীয়তার সঙ্গে ব্যাপকভাবে তদন্ত শুরু করেন। এতে হত্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ জানতে পারেন তিনি।

সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে মনোহরগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে ইয়াকুব আলীর শ্যালক জানে আলমকে আটক করে পিবিআইয়ের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জানে আলমকে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করা হয়।

পরিদর্শক মো. ইফতিয়ার উদ্দিন বলেন, আমরা তদন্তের মাধ্যমে জানতে পারি প্রবাসী ইয়াকুব আলীর উপার্জিত অর্থ জানে আলমের কাছে ছিল। অর্থের পরিমাণও অনেক। জানে আলম তার টাকা আত্মসাৎ করতে চেয়েছিল। এনিয়ে শালা-দুলা ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আমাদের ধারণা, ওই টাকার জন্যই জানে আলম প্রবাসী ইয়াকুবকে হত্যার পর লাশ গুমের জন্য বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়।

তিনি জানান, এই হত্যার ব্যাপার আরো বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে জানে আলমের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই হত্যার আর কেউ জড়িত আছে কিনা সেই ব্যাপারেও তদন্ত করছি আমরা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন