আজ : বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আতিয়া মহল থেকে স্বর্ণালঙ্কার-নগদ টাকা খোয়া

সময় : ৭:৪২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১১ এপ্রিল, ২০১৭


পুলিশের পাহারা থাকার পরও সিলেটের জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল থেকে ভাড়াটিয়াদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা খোয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন পর মঙ্গলবার নিজগৃহে ফিরলেন সিলেটের শিববাড়ি আতিয়া মহলের ৩৯ ভাড়াটে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পুলিশি প্রহরায় ধ্বংসপ্রায় আতিয়া মহলের নিজ নিজ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তারা। জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরুর পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকেই তাদের সর্বস্ব এই আতিয়া মহলেই পড়ে ছিল।
অপারেশন টোয়াইলাইট পরবর্তী র‌্যাবের অপারেশন ক্লিয়ার শেষে সোমবার সন্ধ্যায় আতিয়া মহল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। পুলিশ পরবর্তীতে বাড়ির মালিক ওস্তার আলীর কাছে বাড়িটি বুঝিয়ে দেয়। রাত হয়ে যাওয়ায় ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভাড়াটেরা সোমবার রাতে উঠতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাসার বাইরে থাকায় ফেলে যাওয়া মালামাল অক্ষত পাবেন কি না, কিংবা কতোদিন পর আবার ফ্ল্যাটে ফিরতে পারবেন তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন ভাড়াটেরা। দ্রুত অভিযান শেষে ভবনটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া ও ফ্ল্যাটে তাদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ায় ভাড়াটেদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। বাসায় প্রবেশ করে কারো কারো মুখে হাসি ছিল অমলিন, আবার কেউ কেউ কেঁদেছেন অঝোর ধারায়। অনেকে ফিরে পেয়েছেন সর্বস্ব, আবার কেউ আংশিক, কেউ বা পাননি কিছুই।
শাহানা বেগম। আগামী ২৪ এপ্রিল তার বিয়ের দিন ধার্য করা। বিয়ে উপলক্ষে শ্বশুরালয় থেকে স্বর্ণালঙ্কার, কাপড় কনের বাড়ি পাঠানো হয়। সেই কাপড়সহ স্বর্ণালঙ্কার ছিল আতিয়া মহলের ৩ তলার ১৩নং ফ্ল্যাটে। আতিয়া মহলের নিজ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তিনি ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ১৫ হাজার টাকা, বিয়ের কাপড়চোপড় কিছুই পাননি।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, কোনো কিছুই পেলাম না। আমার সর্বস্ব খোয়া গেছে।

৪ তলার ৬ নং ফ্ল্যাটের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম কাজ করেন রাজমহল সুইটসে। ১৭ দিন গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারের দুবাগে ছিলেন তিনি। নিজ ফ্ল্যাট থেকে হাসিমুখে বের হয়ে তিনি বলেন, নগদ ১ লাখ টাকা স্বর্ণালঙ্কার সবই পেয়েছি।
টেইলার্স ব্যবসায়ী সামিয়া ইসলাম থাকতেন ৩ তলার ১৮ নং ফ্ল্যাটে। তিনি বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নগরীর টিলাগড়ে। ফ্ল্যাটে কম্পিউটার, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার কিছুই পাইনি।
মৌলভী আসাদুজ্জামান আসাদ ছিলেন ৪ তলার ২২ নং ফ্ল্যাটের বাসিন্দা। তিনি বলেন, সবকিছু ফিরে পেয়েছি। তবে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে সবকিছু এলোমেলো ছিল।
আতিয়া মহলের মালিক ওস্তার আলী বলেন, শুরু থেকেই আমি প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। বর্তমানে আতিয়া মহল বসবাসের উপযোগী না হওয়ায় কাউকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মূসা বলেন, আতিয়া মহলের ২৬টি ফ্ল্যাটে ৩৯ ভাড়াটে বসবাস করতেন। সকালে তারা নিজ নিজ ফ্ল্যাটে উঠেছেন। তাদের রেখে যাওয়া জিনিসপত্র ফিরে পেয়ে সকলে আনন্দিত।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল বলেন, সোমবার আতিয়া মহল বিস্ফোরকমুক্ত করে র‌্যাব তাদের অভিযান শেষ করে। এরপর বাড়িটি আমাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

Top