২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার

আশুরা : মুসলিম ঐতিহ্যের অবিস্মরণীয় দিন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অমারেশ কুমার বিশ্বাস :পবিত্র আশুরা মুসলিম ঐতিহ্যে বড়ই বরকতপূর্ণ ও নানাভাবে অবিস্মরণীয়। ইসলামপূর্ব যুগেও এ দিনকে খুব মর্যাদা সহকারে পালন করা হতো। সৃষ্টির শুরু থেকে এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

কুরআন, হাদিস ও ঐতিহাসীকদের কাছ থেকে যা জানা যায়, তা হলো-

পবিত্র আশুরার দিনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা সাগর, পাহাড়, প্রাণীকুল, আসমান-জমিন ও লওহ-কলম সৃষ্টি করেছেন। আবার এদিনেই আরশে আজীমে সমাসীন হয়েছেন। তামাম মাখলুকাত ধ্বংসও হবে মুহররমের ১০ তারিখে।

আল্লাহ পরওয়ারদেগার এ দিনে আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে তার খলিফা নিযুক্ত করেছেন। আর জান্নাতে দাখিল ও পৃথিবীতে নির্বাসনের পর মক্কায়ে মুয়াজ্জমার আরাফাত ময়দানে হযরত মা হাওয়ার সাথে পরিচিত হয়েছেন’’ও দীর্ঘ দিন ক্ষমা প্রার্থনা শেষে দু’জনের তাওবা কবুল করেন।

পৃথিবীর প্রথম হত্যাকান্ড হাবিল কাবিলের ঘটনাও এদিনে সংঘটিত হয়।

হযরত নূহ (আঃ) সদলবলে মহা প্লাবন শেষে যুদী পাহাড়ে অবতরণ করে পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলেন এ দিনে।

হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ক্ষমতাশালী মূর্তিপূজারী নমরুদের অগ্নিকান্ড থেকে উদ্ধার হন এ দিনে।হযরত আইয়ুব (আঃ) কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি পান এ দিনে।

হযরত ইউনুছ (আঃ) মাছের পেট থেকে পরিত্রাণ এবং ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া (আঃ) শিশুপুত্র মুসা (আঃ)কে এ দিনই ফেরত পান।

আল্লাহপাক এ দিনে হযরত ইদ্রিস (আঃ) কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর গুনাহ-অপরাধের জন্য কান্নাকাটি করলে আবার তাকে জান্নাতে ফেরত নেন।

এ দিনই হযরত দাউদ (আঃ) এর গুনাহ মাফ হয়।

কুমারী মাতা বিবি মরিয়ম (আঃ) এর গর্ভ হতে হযরত ঈসা (আঃ)’র পৃথিবীতে আগমন ঘটে।

এ দিনই রহমতস্বরূপ আসমান হতে প্রথম বৃষ্টি নামে।
হযরত সোলাইমান (আঃ) হাতের আংটি হারিয়ে সাময়িকভাবে রাজ্য হারা হলে মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহ তা’য়ালা তার রাজ্য ফিরিয়ে দেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) তার পিতা ইয়াকুব (আঃ) এর সাথে সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর এ দিনে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

হযরত মুসা (আ:) তৎকালীন মিসরের বাদশাহ ফেরাউনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে এ দিনে তিনি বনী ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে নীল নদ পার হয়ে যান আর নদীর মাঝপথে পানি চাপা পড়ে ফেরাঊনের সলিল সমাধি ঘটে।

হযরত ঈসা (আঃ)কে আল্লাহ তা’য়ালা নিজ অনুগ্রহে এ দিনে আসমানে তুলে নেন।

হযরত মুসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-এর স্মৃতি বিজড়িত এ দিন ইহুদি-খৃষ্টানদের মাঝেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

আমাদের পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিযরতের পর মদিনায় এসে দেখতে পেলেন যে, ইহুদিরা এ দিনে রোযা রাখছে। তারা ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সাথে আশুরা পালন করছে।

মহানবী (সাঃ) আরো জানতে পারলেন যে, তারা হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য এ দিনকে বেছে নিয়েছে।

হুজুরে পাক (সঃ) উপলদ্ধি করলেন যে, হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি আমাদেরও ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তাই তিনি ঐ দিনই রোযা রাখলেন এবং সাহাবীদেরও রোযা রাখতে উপদেশ দিলেন।

তবে ১০ মুহররমের আগে পরে একটি রোযা বাড়িয়ে দুটি রোযা রাখতে বললেন যাতে মুসলমানদের ইবাদতের সাথে ইহুদি-খৃষ্টানদের ইবাদতের মিল না হয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন