আজ : সোমবার, ২৬শে জুন, ২০১৭ ইং | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এই প্রথম ‘মেইল গাড়ি’র স্টিয়ারিংয়ে নারী চালকরা

সময় : ৯:৪৪ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৭


ঢাকা : ডাকবাহী ‘মেইল গাড়ি’র স্টিয়ারিংয়ে প্রথমবারের মত বসলেন একজন নারী চালক। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আজ রবিবার ঢাকার ডাক ভবন চত্বরে ১০টি গাড়ির চাবি তুলে দেন ১০ জন নারী চালকের হাতে। এখন থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রাস্তায় ডাকবাহী গাড়ি চালাতে দেখা যাবে এই নারী চালকদের।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, ডাক বিভাগের ‘ডাক পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের অধীনে নতুন যোগ হতে যাওয়া ১১৮টি যানবাহনের মধ্যে ২০ শতাংশের চালক থাকবেন নারী। এটি খুব সুন্দর দৃষ্টান্ত হবে। আমাদের মেয়েরা হেভি ভেহিকেল চালনার জন্য প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তারা যখন গ্রামাঞ্চলে বা ঢাকা শহরে এই গাড়িগুলো চালাবেন, তখন সেটি হবে দর্শনীয় ও প্রশংসা করার মত একটি কাজ। ”

নারী চালকদের নিয়োগপত্র এবং বেতন-ভাতা সঠিকভাবে দেওয়ার বিষয়ে ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নতুন প্রকল্পের অধীনে পাওয়া নয়টি ওপেন বডি পিকআপ ভ্যান এবং ১০টি কভার্ড ভ্যানের উদ্বোধন করে তারানা বলেন, অবশিষ্ট গাড়িগুলো আগামী জুন মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে। গাড়ি কেনার পাশাপাশি এ প্রকল্পের অধীনে ৩৩টি গ্যারেজও নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, “ডাক বিভাগের নিজস্ব পরিবহন না থাকায় ভাড়া বা চুক্তির মাধ্যমে সড়কপথে ডাক পরিবহন করতে হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাণিজ্যিক পার্সেল ও লজিস্টিকস পরিবহন চালু হবে। ”

ডাকগাড়ির বহরে নতুন ১৯টি যানবাহন যুক্ত হওয়াকে ‘সাফল্যের একটুখানি ঝলক’ হিসেবে বর্ণনা করেন তারানা হালিম। তিনি বলেন, “একনেকের অনুমোদন পাওয়ার পর ১১৮টি যানবাহন যাতে দ্রুত চলে আসে, সেজন্য তাগাদা দিচ্ছিলাম। আমি বলব- এই যানবাহনগুলো ডাক বিভাগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নববর্ষের উপহার। ”

তারানা বলেন, “এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাক বিভাগকে ‘নিজের পায়ে দাঁড় করানোর বিষয়টি’ তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন।
কথা দিয়েছিলাম, নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। ডাক বিভাগের সকলে শতভাগ সহায়তা দিয়েছেন। ডাক বিভাগে হোঁচট খাইনি। ”

তিনি জানান, দেশের সব ডাকঘরে সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করাই বাস্তবায়নাধীন নতুন প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ডাকঘরে সেবার ধরন বাড়ানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পোস্ট অফিসগুলোকে ‘বিশেষ ব্যাংক’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। পোস্ট অফিস বিশেষ ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করলে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। এজন্য সমস্ত কাজ শেষ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠাব। তিনি বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন, আমরা এখন বিস্তারিত পাঠাব।

প্রস্তাবিত পোস্ট ব্যাংক নিয়ে নিজের কিছু স্বপ্নের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ একটি কাজ করতে চাই। এখানে প্রত্যেক বাবা-মা তাদের কন্যার লেখাপড়ার জন্য মাত্র পাঁচ টাকা দিয়ে একটি ফিক্সড ডিপোজিট হিসাব খুলতে পারবেন।

তারানা হালিম বলেন, সরকারের কাছে আমরা প্রস্তাব করব, সেখানে একটু যদি ইনসেনটিভ দেয়, তাহলে কন্যার বয়স যখন ১৮ বছর হবে তখন সেটি আমরা কন্যার হাতে তুলে দিতে চাই। এই অংশটি দিয়ে সে ভবিষ্যতে লেখাপড়ার জীবনটি কনটিনিউ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল।

Top