আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

একজন সাংবাদিকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হোক

সময় : ৬:০১ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২৬ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

এবি সিদ্দিক :বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শুদ্ধ সমাজ গঠন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, অবাধ তথ্যের আদান-প্রদান, জনসচেতনতা সৃষ্টি, জ্ঞান-বিতরণের পাশাপাশি নানামুখী কাজের সহায়ক হিসেবে গণমাধ্যম একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে অন্যদিকে কিছু অযোগ্য গণমাধ্যমকর্মীদের কারণে মহান সাংবাদিকতা পেশা আজ কলঙ্কিত হচ্ছে।

রাজধানীসহ বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নীতিমালা না মেনে প্রতিনিয়ত ব্যাঙের ছাতার মতো নামে-বেনামে নতুন নতুন মিডিয়া আত্মপ্রকাশ করছে। এখন গণমাধ্যমে কাজ করা মামার বাড়ির আবদারের মতো হয়ে গেছে, যেন চাইলেই সাংবাদিক হওয়া যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে কোনো যোগ্যতারই প্রয়োজন পড়ে না। শুধু কর্তৃপক্ষের পকেট ভরাতে পারলেই হয়। সকালে যোগাযোগ করলে বিকেলেই পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালের পরিচয়পত্র প্রস্তুত। তারপর গলায় ঝুলিয়ে অফিসপাড়ায় আনাগোনা শুরু করে দিলেই সাংবাদিক বনে যাওয়া যায়।

শুধুমাত্র স্থানীয় পত্রিকাই নয় কিছু কিছু জাতীয় পত্রিকারও একই হাল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় দৈনিকগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকার হাজার হাজার সাংবাদিক রয়েছে। দেশে প্রকৃত সাংবাদিকের সংখ্যা ও পত্রপত্রিকার সংখ্যা কত তা হয়তো কারো জানা নেই। পেশাদারিত্বের চেয়ে সাংবাদিকতার আড়ালে টু পাইস কামানোর জন্য সাংবাদিকতায় আসার প্রবণতা এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিকতা পেশা ছাড়া অন্য কোনো পেশা নেই এবং সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিস থেকে কোনো প্রকার বেতন-ভাতাদি না পেয়েও অনেক সাংবাদিক সচ্ছল জীবনযাপন করেন। অনেকেই অল্প দিনেই বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে যান। এটা কি করে সম্ভব তা সহজেই বুঝা যায়। ফলে সমাজ ব্যবস্থায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয় প্রকৃত সাংবাদিকদের। চক্ষুলজ্জায় সামনে কেউ কিছু না বললেও অন্তরালে নানামুখী সমালোচনা আর ধিক্কার দেন গোটা সাংবাদিক সমাজকে।

হলুদ সাংবাদিকতা চর্চায় স্বনামধন্য কিছু জাতীয় পত্রিকার ভূমিকাও কম নয়। তারা টাকার বিনিময়ে সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের জন্যও ওই সাংবাদিকের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। বেতন-ভাতাদি ছাড়া সাংবাদিক নিয়োগ দেয়া মিডিয়া মালিকদের কুচক্রী মনোভাবের ফলে হলুদ সাংবাদিকতার চর্চা বেড়েই চলেছে। ‘। সাংবাদিকতার দোহাই দিয়ে অনেক সাংবাদিক বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম পরিচালনা করার সুযোগ পাচ্ছে। যারা সাংবাদিকতার আড়ালে অপকর্ম করে বেড়ায় আর যারা সেই সব সাংবাদিক তৈরি করেন তারা উভয়েই সমান অপরাধী।

‘স্নাতক ডিগ্রি অর্থাৎ বিএ পাস ছাড়া নতুন কেউ সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না’ জানিয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক সম্প্রতি মাদারীপুরে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বক্তব্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও বলতেই চাই একজন সাংবাদিকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হোক। শুধুমাত্র স্নাতক ডিগ্রিধারী সাংবাদিকদের কাজ করার সুযোগ দিয়ে অযোগ্যদের সাংবাদিকতা বাতিল করা হোক। এতে করে দেশে ন্যূনতম কয়েক হাজার হলুদ সাংবাদিকের পতন হবে। বেনামি স্থানীয় পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়াও পত্রিকা অফিসগুলোকে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে সাংবাদিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করার পাশাপাশি নিয়োগপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার সুরক্ষায় অতি দ্রুত প্রকৃত সাংবাদিকদের একটি তালিকা তৈরি বা নিবন্ধনের আওতায় আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মহান সাংবাদিকতা পেশার মান বাঁচাতে প্রকৃত সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
এবি সিদ্দিক লেখক সাংবাদিক

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top