আজ : রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৭ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এক নেতার এক পদ’-এ বাধা খালেদার বিশেষ ক্ষমতা

সময় : ৯:২৩ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৭


দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের এক বছর পরও ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন করতে পরেনি বিএনপি। এই নীতি বাস্তবায়নে একাধিকার ‘ডেডলাইন’ দিলেও দৃশ্যমান কোনো আগ্রগতি নেই। এরই মধ্যে একাধিক পদে থাকতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘বিশেষ ক্ষমতা’র সুযোগ নিতে চায় কেউ কেউ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ড নির্দেশ দেয় সম্প্রতি যাদের একাদিক পদ আছে তারা যে কোনো একটি রেখে বাকি পদগুলো ছেড়ে দেয়। এর জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়। এ জন্য দলের ১৯ জন নেতাকে চিঠি পাঠানো হয়। তবে সবাই চিঠির উত্তর দিলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, দলীয় চেয়ারপারসনের বিশেষ ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই একাধিক পদে থাকতে চান। দীর্ঘমেয়াদী না হলেও অন্তত আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তারা একাধিক পদে থাকতে চান। এখন দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তারা। বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল দলের ১৯ নেতার কাছে চিঠি পাঠানো হয় এক পদ রেখে অন্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনপত্র কেন্দ্রে জমা দেওয়ার জন্য। যদি কেউ অব্যহতিপত্র জমা না দেন, তাহলে সেই নেতার একটি পদ হাইকমান্ড থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট নেতা যদি জেলায় থাকতে চান, তাহলে তাকে কেন্দ্রীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। তেমনি সংশ্লিষ্ট নেতা যদি জেলার পদ ছেড়ে কেন্দ্রীয় পদে থাকার আগ্রহ পোষণ করেন তাহলে তাকে জেলার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্রীয় পদেই রাখা হবে।
গত বছর ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি গৃহীত হয়। পর থেকে কয়েক দফায় পদক্ষেপ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে দলের মধ্যম সারির এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দলের গণতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপি প্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া আছে। তিনি চাইলে একজনকে একাধিক পদে দায়িত্ব দিতে পারেন। কিন্তু অনেকই এর সুযোগ নিতে চাইছেন।’
জানা গেছে, বিএনপির তিনজন একাধিক পদে থাকতে চান। দীর্ষমেয়াদী না হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত হলেও তারা জেলা বিএনপির দায়িত্ব পালন করে যেতে চান। এই নিয়ে খালেদা জিয়াকে তারা অনুরোধ জানাবেন। তবে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তাদের একাধিক পদে থাকার ভাগ্য।
ওই তিন জন হচ্ছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার। তিনি বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। তিনিও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের পার্টির চেয়ারপারসন চাইলে এক জনকে একাধিক পদে দায়িত্ব দিতে পারেন। এই ক্ষমতা দলের গঠনতন্ত্রে দেওয়া আছে। এখানে আমাদের বলার কিছুই নেই। উনি কাকে এক পদ দিবেন কাকে একাধিক পদ দিবেন এটা বলা এখতিয়ার আমাদের নেই। কাকে এটা উনিই ভালো বুঝেন।’
জানতে চাইলে দলের আরেক সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ চলছে। হয়ে যাবে। হয় তো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়নি। সময় তোর আর শেষ হয়ে যায়নি। দায়িত্ব দেওয়া আছে তারা কাজ করছেন

Top