আজ : বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এক মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তোলেন দুই অ্যাকাউন্ট থেকে

সময় : ১২:৪৫ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১৪ মার্চ, ২০১৭


সরকারি নিয়ম অনুসারে এক মুক্তিযোদ্ধা কেবল এক জায়গায়-ই তালিকাভুক্ত হতে পারবেন পাশাপাশি একটিমাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু নিয়মকে উপেক্ষা করে পিরোজপুরের কাউখালি ও খুলনার খালিশপুরে তালিকাভুক্ত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কে এম আলম। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তিনি দুই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভাতার টাকাও উত্তোলন করে আসছেন।
মুক্তিযোদ্ধা কে এম আলম পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার জয়কুল গ্রামের মো. মোকলেছুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনার খালিশপুরে বসবাস করছেন।
কে এম আলমের লাল মুক্তি বার্তা নং-০৬০৫০৪০২২৫, গেজেট নং-৬২১, তারিখ-১৪-০৫-২০০৫, জন্ম তারিখ- ১৭-০৩-১৯৫৪, হিসেবে সম্মানীভাতা প্রাপ্ত ব্যাংক হিসাব নং- ১০০০০৯২৫২, সোনালী ব্যাংক, কাউখালী শাখা।
কাউখালীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত ও সম্মানীভাতা গ্রহণের তথ্য গোপন করে ২০০৬ সাল থেকে তার বসবাসকৃত খালিশপুর (খুলনা) উপজেলার ১০ নং ওয়ার্ডের বাড়ি নং- ডি/১৫ ঠিকানা ব্যবহার করে কে এম আলম, পিতা হাজী মোকলেছুর রহমান নামে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। যার মুক্তিবার্তা নং- ০৪০১০৩০০৫৫, জন্ম তারিখ ১৭-০৩-১৯৫৪। সোনালী ব্যাংক (খালিশপুর শাখা) হিসাব নং ০০২৬০০০১৫৩. থেকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা গ্রহণ করে আসছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে কাউখালী সোনালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের কোর্ট ও দুদক ছাড়া কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে কে এম আলম নামে একজন ভাতাভোগী এখান থেকে নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণ করেন।
সোনালী ব্যাংক খালিশপুর (খুলনা) শাখা ব্যবস্থাপক মো. মফিজুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তথ্য মিলেছে। অ্যাকাউন্ট ও নামের সঙ্গে মিল রয়েছে। তিনি এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ ভাতা উত্তোলন করেন।
একই শাখার অফিসার (ক্যাশ) মাসুদ হোসেন প্রতিবেদককে জানান, ডিসি অফিস থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের যে তালিকা আমাদের কাছে পাঠায় আমরা সেই অনুযায়ী তাদের একাউন্টে টাকা দেই, তারা তাদের চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন।
কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. হারুন-অর-রশিদ সাঈদ বলেন, তিনি একজন সম্মানী ব্যক্তি। এ বিষয়ে আমি শুনেছি। পরে আলমের সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি আলমের উদ্ধৃতি দিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, তার বন্ধুরা খালিশপুরে তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
কাউখালীর ডেপুটি কমান্ডার মো. আলী হোসেন তালুকদার জানান, এ বিষয়টি রোববার শুনেছি। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেছি যাতে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কে. এম আলম দুই উপজেলায় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও ভাতাগ্রহণ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার দুপুরে বলেন, আমি স্থায়ীভাবে খুলনার খালিশপুরে বসবাস করি। এ জন্য আমি জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল) ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি কাউখালী উপজেলার নামটি বাতিল করার জন্য।
ভাতা গ্রহণের পর এখন একটি উপজেলার নাম কর্তন বিষয়ে আবেদন, এমন প্রশ্নে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। দুই স্থানে (খুলনার খালিশপুর ও কাউখালী) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে আমার নাম। আমি গত ৬ মাস পূর্বে এ আবেদন করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমি হিসেব করে দেখেছি, মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার মতো উত্তোলন করেছি, সেই টাকা আমি ফেরত দিয়ে দেব।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবণী চাকমা সোমবার বিকেলে বলেন, এ বিষয়ে শুনেছি, তবে নির্দিষ্টভাবে কেউ আমার কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি।

Top