২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

এখনও ধরাছোয়ার বাইরে জাল সনদ তৈরির মূল কারিগর

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

হিমঘরে চলে গেছে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিল স্বাক্ষর যুক্ত দাখিল ও আলিম পরীক্ষা পাশের সনদপত্র তৈরির কারিগর ফুলতলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ মাও মোস্তাফিজুর রহমান  এর জালিয়াতির তথ্যানুসন্ধান।৮ মাসেও জমা পড়েনি চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে জালিয়াতির সাথে জড়িত জাল সনদ তৈরির মূল কারিগরমোস্তাফিজুর রহমান। ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে জালিয়াতির আসল ঘটনা।

জানা যায়,প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের নাকের ডগায় ঘুরে বেরাচ্ছেন  তিনি,কিভাবে এই রকম জালিয়াতি করেও  ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন তা আজ ও অজানা

সুত্রে জানা যায়, জাল-জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিল স্বাক্ষর যুক্ত দাখিল ও আলিম পরীক্ষা পাশের সনদপত্র তৈরির কারিগর ফুলতলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ মাও মোস্তাফিজুর রহমান। তার প্রতারনার ফাদে পা দিয়ে ধ্বংশের পথে তার মাদ্রাসার ছাত্র মোঃহাবিবুর রহমান (৩১)

সুত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার বেতাগী থানার ১ নং বিবিচিনি ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃদলিল উদ্দিন খলিফার পুত্র মোঃহাবিবুর রহমান ফুলতলা মাদ্রাসা থেকে ২০০৪ সনে দাখিল পরীক্ষায়
উত্তীর্ন হয়ে ১.৩৩ জিপিএ পায়।

সুত্রে আরো জানা যায়,২০১০ সালে ফুলতলা মাদ্রাসায় অধ্যাক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার সুবাদে।দক্ষিন বঙ্গের একমাত্র জাল – জালিয়াতি ও প্রতারনা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিল স্বাক্ষর যুক্ত দাখিল ও আলিম পরীক্ষা পাশের সনদপত্র তৈরির কারিগর মোস্তাফিজুর রহমান সাথে দেখা হয় ছাত্র হাবিবুর রহমানের। মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে হাবিবুর রহমান তার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলের কথা বললে চট করে তিনি লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফলাফল পরিবর্তন করা যায় বলে তাকে জানান। তিনি বলেন তোমার পিতার মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় কোন না কোন চাকুরী নিতে পারবা।অধ্যাক্ষ মুস্তাফিজুর রহমানের যুক্তিযুক্ত পরামর্শ শুনে চুক্তিতে আবদ্য হন হাবিবুর রহমান ।কথামত কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিবর্তন করে ১.৩৩ থেকে গ্রেড পরিবর্তন করে ২.৫৮ করে দেয় অধ্যাক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান।সেই পয়েন্ট পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে প্রত্যায়নপত্র নিয়ে চলতি বছরের ১৭ই এপ্রিল সকাল ৯টায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম চলাকালীন প্রাথমিক বাছাইয়ে মোঃ হাবিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় উত্তীর্ন হওয়ায় তাহার অনুকূলে দাখিল পরীক্ষার পাসের মুল সনদ দাখিল করেন। পরবর্তী সময় হাবিবুর রহমান কর্তৃক দাখিলকৃত দাখিল পরীক্ষার পাশের মূল সনদ টি চলতি বছরের ৭ই মার্চে যাচাই-বাচাই এর জন্য প্রতি স্বাক্ষরিত এক কপি পরীক্ষানিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ঢাকা বরাবর প্রেরন করা হলে দাখিলকৃত দাখিল পরীক্ষার পাশের মুল সনদের ফটোকপি প্রতি স্বাক্ষরিত সনদটি যাহার নাম মোঃ হাবিবুর রহমান সনদটির সিরিয়াল নং ০০৪৬৯৮৬ রেজিঃ নং ৮৩৩৬০৫।১৯৯৯ দাখিল পরীক্ষা ২০০৪ রোল নং ২১৬৪৩৫ এর প্রাপ্তি পয়েন্ট জিপিএ ২.৫৮,সম্মিলিত সনদটি সহিদ বোর্ডের তথ্যের সাথে মিল না থাকায় প্রার্থীর পিতার নাম বোর্ডের সংরক্ষিত নথিতে মোঃদলিল উদ্দিন খলিফা এবং প্রাপ্ত পয়েন্ট জিপিএ ১.৩৩ লাল কালিতে লিপিবদ্দ করে ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনেশন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ঢাকা।পুলিশ এই জালিয়াতির কপি হাতে পেয়ে বরগুনা জেলার আর ও-২ রিজার্ভ অফিস পুলিশ এ এস আই মোঃ সোহেল খান বাদী হয়ে মূল প্রতারক মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে মোটা অংকের ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে তার নাম বাদ দিয়ে ছাত্র মোঃ হাবিবুর রহমান (৩১) কে এক নম্বর আসামী করে ২/৩ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা করে।মামলার ধারা ৪২০,৪৬৮,৪৭১,১০৯ পেনাল কোর্ট এ জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিল স্বাক্ষরযুক্ত দাখিল পরীক্ষা পাশের সনদপত্র তৈরি করে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের সময় দাখিল করা ও সহায়তার অপরাধে নথিভুক্ত হয়।অথচ যার মাধ্যমে প্রতারনার পথে হাটলেন তার নাম নেই কোথায়ও।

আরো জানা যায়, ২০১০ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি বিহীন গঠিত এ্যাডহক কমিটি দ্বারা রেজুলিউশন বিধি না মেনে ৫ ঘন্টা এর ব্যাবধানে ২টি অবৈধ রেজুলিউশন করে ৩ লাখ টাকা ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ অধ্যাক্ষ মোস্তাফিজ মাওলানাকে নিয়োগ প্রধান করেন তৎকালীন সভাপতি খলিলুর রহমান বিশ্বাস।এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০০৯” এর ৪১(২)(খ)৪ আদেশ অনুযায়ী সম্পুর্ন অবৈধ।

এছারাও সরকারী নির্দেশ আছে যে ১০০০ হাজার এর উপরে প্রতিষ্ঠানিক ব্যায় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে সম্পন্য করতে হবে,কিন্তু বিষয় কোন তোয়াক্কা করছেন না মোস্তাফিজুর রহমান ও সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মানিক।

এদিকে জানাযায়,মোস্তাফিজুর রহমান যখন অন্য একটি মাদ্রাসায় ছিল তখন সেই মাদ্রাসায় বসেও অনেক স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা যখন স্কুলের পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে না পারত তখনি তারা এই প্রতারকের স্বরনাপন্য হত। তিনি তাদেরকে এনে সেই বছরই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিতেন।অন্য নামে রেজিস্টেশন থাকা রেজিস্টেশন কার্ড দিয়ে সেখানে পরীক্ষার্থীর নামের মিল থাকলেও পিতার নাম ভুল থাকে,আবার পরিক্ষার্থীর নাম ভুল থাকলেও পিতার নাম সঠিক পাওয়া যায়,আবার নাম ঠিকানা ভুল থাকলে এপিট ডেপিট করে নাম সংশোধনীর মাধ্যমে পরে সঠিক নাম বসায়।

অন্যদিকে একটি সুত্রের দাবি, তিনি আজ নয় এই দক্ষিন বঙ্গের প্রতারনা চক্রের মূল হোতা তার সাবেক কর্ম স্থান রানীপুর গরিয়াবুনিয়া এছাহাকিয়া দাখিল মাদ্রাসার রেজিস্টেশন কার্ড বিতরনের বই ও মার্কশীট বিতরনের বই এবং সনদপত্রের বিতরনের বই চেক করলেই বের হয়ে আসবে প্রতারকের মূল চরিত্র।

মোস্তাফিজুর রহমানের কথা জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানায়,মোস্তাফিজুর রহমান এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নাই যে তিনি তা করেন না,পরের জমি দখল থেকে শুরু করে ছাত্রীদের যৌন হয়রানী পর্যন্ত করেছেন।যার কারনে তার স্ত্রী তার কাছ থেকে দূরে থাকেন।বর্তমানে তার স্ত্রী ঢাকায় থাকার সুবাদে মোস্তাফিজুর রহমান তার বাসার কাজের মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জরিয়ে পরেন। এলাকায় জানা জানি হলে ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।

রানীপুর বাজারের দক্ষিন পাশে পাঁচতলা ফাউন্ডেশন করে ঘর নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ছোট ভাই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি ঢাকা দক্ষিনের রোকন মাসুদুর রহমান।তার ভাই ঢাকা থাকার সুবাদে তার মাধ্যমেই জেএমবি সদস্য পদ নিয়ে দক্ষিন বঙ্গের জেএমবির নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্য একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তার মুঠোফোনে অপরিচিত কোন নাম্বার দিয়ে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না। কারন কখন কে কোথায় থেকে ফোন করে যদি জালিয়াতির কথা বা জেএমবির কথা কোন রকমের প্রকাশ পায় তাই ভেবে অপরিচিত কোন ফোন নাম্বার রিসিভ করেন না তিনি।

অন্য দিকে ছাত্র হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা শুনেই নিজের পক্ষে কৌশল করে সকল শিক্ষক শিক্ষীকা ও কর্মচারীবৃন্দের কাছ থেকে তিনি ভালোমানুষ এই মর্মে অঙ্গীকারনামা নেয়।হাবিবুর রহমানের নাম ও সাক্ষর এবং তার পিতার নাম ও সাক্ষর জাল করে একটি এফোর কাগজের অর্ধেক অংশে তিনি নির্দোশ বলে অঙ্গীকার দিয়ে জান বলে জাল কাগজ তৈরি করেন তিনি।অথচ এই ঘটনা ঘটার পর থেকেই হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছেন। এবং তার বাবা ও মা এ বিষয় গুলো সম্পুর্ন অস্বীকার করে বলে আমার ছেলেকে মোস্তাফিজুর রহমান অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারনার দিকে ধাবিত করেছে।আমি তার বিরুদ্দে আইন-আনুগ ব্যাবস্থার দাবি জানাই এবং যাতে আর কোন সহজ সরল ছেলে মেয়েরা এই প্রতারনার দিকে না ছুটে যায়।তাই এর বিচার চাই।

মাদ্রাসার ছাত্র মোঃহাবিবুর রহমান (৩১) উল্লেখ ও বাকি দুজন অজ্ঞাত করে জাল-জালিয়াতির মামলা হয়েছে। এ বিষয় মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি বলেন জাল-জালিয়াতির যে মামলা হয়েছে আমি তা কিছুই জানিনা।

আপনি কি তাকে প্রত্যায়নপত্র দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রতিবেদক কে বলেন,হ্যা দিয়েছি ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন