আজ : সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এদেশের মানুষ বৃষ্টি-বাদল-বন্যা-তুফান সঙ্গে নিয়েই জীবন কাটায়।

সময় : ৭:৩৯ অপরাহ্ণ , তারিখ : ২৫ আগস্ট, ২০১৭


আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

এবি সিদ্দিক: বাংলাদেশ ঝড়-জলের দেশ। তাই এদেশে বন্যাও স্বাভাবিক সাংবাৎসরিক ঘটনা। এদেশের মানুষ বৃষ্টি-বাদল-বন্যা-তুফান সঙ্গে নিয়েই জীবন কাটায়। সবকিছুকে মোকাবিলা করে সাহসের সঙ্গে। তাই বন্যাকে এদেশের মানুষ কখনো ভয় পায় না। তবুও বন্যা বন্যাই। বন্যা মানেই কিছু প্রাণহানি আর বিপুল সম্পদহানি। তাই বন্যা আসছে শুনলেই আমরা আঁতকে উঠি।

তবুও বন্যা আসে। এই যেমন গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। মাত্র এক দিনে ৯০ পয়েন্টের মধ্যে ৮১টিতে পানি বেড়ে গেছে; ১৭টি পয়েন্টে পানি উঠে গেছে বিপত্সীমার ওপরে। বন্যা পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলছেন, আরো তিন দিন পানি বাড়তে পারে।

এক দিনেই একসঙ্গে বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক নয়। আরো তিন দিন যদি এভাবে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকে, বিপত্সীমার ওপরে উঠবে আরো কিছু এলাকার পানি।

এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, বন্যায় ইতিমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ১৭ জেলার লাখ লাখ মানুষ। নিম্নাঞ্চলের মানুষের বাড়িঘরে পানি ওঠায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকার শত শত পরিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় বেড়েছে নদীভাঙ্গন। অনেক স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোপা আমন ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পানিতে ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ।

এসবই বন্যার স্বাভাবিক চিত্র। প্রতি বছর বন্যায় এসব দুর্ভোগের খবর আমাদের জানা। তবে এবারের যে-দিকটির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে বলে আমরা মনে করি, তা হলো এর সময়। এবার বন্যা এসেছে আগস্টে। আগস্টের বন্যা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে বলেই জানান বিশেষজ্ঞরা। বন্যা মোকাবিলা পরিকল্পনায় বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রাখা হবে বলেই আমরা আশা করি।

কয়েক মাস আগে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণার হাওরের ফসল ভেসে গিয়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তার খেসারত নিরপরাধ ক্রেতাসাধারণকে এখনো দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিপুল চাল আমদানি করেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এখানেই সতর্ক হওয়ার প্রশ্নটি চলে আসে। বরাবরের মতো কেবল বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করা, প্রয়োজনমতো আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, বিশেষ সাহায্যের পাশাপাশি সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের কাছে তাত্ক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য চাল ও টাকা দেয়া এবং মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখাই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি না। বরং লক্ষ্য রাখতে হবে, মানবিক বোধহীন সুযোগসন্ধানী মুনাফাবাজরা যেন এই দুর্যোগের সুযোগ নিতে না পারে।

এদেশে প্রতি বছরই বন্যা হয়; কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে। পাশাপাশি একশ্রেণীর দুর্বৃত্ত স্বভাবের ‘’মানুষ’’ লিপ্ত হয় কী করে মানুষের দুর্ভোগকে পুঁজি করে লাভবান হওয়া যায় সেই অপচেষ্টায়। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে – এমন আশা কেউ করে না।

হাওরের ফসলহানির পর থেকে দুষ্টচক্রটির নড়াচড়া চালের বাজারে দৃশ্যমান। ওরা এবারের বন্যার সুযোগ বুঝে আরো মরিয়া হয়ে উঠতে পারে। আমরা সকলকে মনে করিয়ে দিতে চাই, চালের দাম এদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি বড় নিয়ামক। একে নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া ঠিক হবে না। ভুলে গেলে চলবে না, দাম শাসনই (অনেকাংশে) দেশ শাসন।
এবি সিদ্দিক লেখক সাংবাদিক

আপডেট নিউজ পেতে পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Top