আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কথা রাখেনি বিসিসি…

সময় : ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ১১ মার্চ, ২০১৭


এম.এস.আই লিমনঃবরশাল নগরীতে বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ ভোগান্তি পোহাতে হয় দূর দুরান্ত থেকে জাতির ভবিষ্যত হিসেবে গড়তে শিক্ষা নিতে আসা প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীদের। বর্ষার মৌসুমে বৃস্টির পানি নগরী থেকে নেমে শুকিয়ে গেলেও হাটুঅবদি জ্বলে থই থই করে ৩/৪ দিন যাবৎ বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী বিএমকলেজ ক্যাম্পাস জুরে। জ্বলাবদ্ধতার চরম এ সমেস্যাদূরকরনের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে একাধিক বার অবহিত করা হলেও অচিরে সমাধানের কথা দিয়ে কথা না রাখার নানান তাল বাহানায় চলছে বিসিসি। দীর্ঘ বছর ধরেই জ্বলাবদ্ধতার এ সমেস্যার ফলে ভোগান্তি পোহানো সহ দূর্ভোগে পাঠদানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে কলেজ কতৃপক্ষ প্রকট আকার ধারন করা জ্বলাবদ্ধতার সমেস্যা নিরসনে বারংবার বিসিসির মেয়রকে অবহিত করলেও কোন ভ্রুক্ষেপ করছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা।সূত্রে জানাগেছে, ব্রজমোহন কলেজে অধক্ষ্য হিসেবে প্রফেসর স.ম.ইমানুল হাকীম যোগদান করেই শিক্ষার্থীদের হাটু জ্বলে ভোগান্তির দৃশ্যে দৃষ্টিগোচর হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের সাথে জরুরী পরামর্শ করে দীর্ঘবছরের পুরোনো সমেস্যা দূর করনে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে জ্বলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মানের জন্য ২কোটি টাকার বাজেট তৈরী করে দিয়ে অনুরোধ ক্রমে চাওয়া হয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামালের কাছে। জলাবদ্ধতা দূর করনে ব্যবস্থা গ্রহন করবে নগর পিতা এমন আশ্বাসে আশ্বস্থ করলেও ইতোপূর্বে কয়েক বর্ষা কেটে গেলেও তা বাস্তবায়নের কোন আশাই খুজে পাচ্ছে না।

বিসিসির এনিয়ে তেমন মাথা ব্যাথাও দেখছে না কলেজ কতৃপক্ষ। এনিয়ে বেশকয়েকবার নগরভবনের দারস্থ হয়ে কলেজ কতৃপক্ষ তাদের দূরবস্থার কথা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির চরম দৃশ্যের চিত্রপটের কথা অবহিত করলে মেয়রের নির্বাচনী ওয়াদা শুনেই শুধু মাত্র আশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে কোন সুরহা না পেয়ে ওয়াদা শুনেই।বিসিসি বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিস্থানের দীর্ঘদিনের সমেস্যা দূর করতে এগিয়ে না এসে নানান তালবাহানা করলেও সম্প্রতি বিসিসিতে ঘটে যাওয়া বকেয়া পাওনা আদায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি আন্দোলনে নগর প্রায় অচলে থরকম্প হওয়ায় নগরসেবা ব্যহৃত থাকার ফলে মেয়র বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে পরে কোনঠাসা হয়ে পরার মুহুর্তে ইমেইজ সংকটপন্ন অবস্থায় সর্বপ্রথমেই করের ৮০ লক্ষ টাকা মেয়রের হাতে দিয়ে তার ইমেইজ রক্ষা করে গোটা নগর বাসীর কাছে।কর্মবিরতিতে নগরসেবা স্থগিত হয়ে পরলেও মেয়র বিসিসির ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কর্মবিরতির আন্দোলন দীর্ঘায়ু হতে থাকে আর মেয়রও কোন সিদ্ধান্ত শুনিয়ে আন্দোলন সমাপ্তি ঘটাতে উপাহীনতায় বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে পরে।এমতাবস্থায় বিএম কলেজের বকেয়া কর ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে বিসিসির দূরবস্থায় পাশে দাড়ানোর ফলে মেয়রের ধরে প্রান যেন ফিরে পায়,এবং অচিরে আন্দোলনকারীদের ন্যয্য দাবী পুরন করা হবে বলে আন্দোলনের সমাপ্তি হয়ে কর্মচাঞ্চল্যকতা ফিরে মেয়রের ইমেইজ রক্ষা পায় সে যাত্রায়। কিন্তু তার দূরঅস্থায় পাশে দাড়ালেও তার পূর্বে বিএম কলেজ কে দেয়া প্রতিশ্রুতি হাজারো শিক্ষার্থীদের জ্বলাবদ্ধতায় পরে ভোগান্তি কমানোর কোন ধরনের স্থায়ী সমাধানে কোন ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় আশ্বাস দেয় কলজ কতৃপক্ষ কে সবটাই যেন ভুলে। কলেজ সূত্রে জানা গেছে ৬৩ একরের উপর স্থাপিত বৃহত্তমঐতিহ্যবাহী কলেজ ব্রজমোহন(বিএম) কলেজে ২২টি বিভাগে দূর দুরান্ত থেকে শিক্ষা নিতে আসা প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন রত রয়েছে। বিএম কলেজ শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, বিসিসি অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করায় “আর কলেজ নিচু স্তরে থাকার ফলে একটু বৃস্টির পানিতেই সব পানি জমা হয়ে কলেজ ক্যাম্পাস বিল হিসেবে যেন রুপান্তিত হয়। বৃস্টি শেষের ৩/৪ দিন গেলেও কলেজ ক্যাম্পাসে থাকে বৃস্টির পানিতে সৃস্টি হওয়া জ্বলাবদ্ধতায় পরিপূর্ণ । এতেকরে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘটছে অনেকটাই বিঘ্ন। শতাধিক শিক্ষার্থীরাও একই অভিযোগ করে জানায় প্রতিবেদককে,জ্বলবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমেস্যা বছরের পর বছর ধরেই রয়ে গেছে আর তা নিরসনে বহুবারই সিটি কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন সুরহা মিলছে না ফলে ক্লাশ করতে তাদের সমেস্যা হচ্ছে এক কথায় বর্ষার পানিতে ক্যাম্পাসে হাটু পরিমানে পানি জমে থাকায় অনেক ভবনের নিচ তলায় পানি ওঠায় ক্লাশ এক প্রকার বন্ধই থাকে যতদিনে না জ্বলাবদ্ধতার পানি বাস্প এবং মাটিতে সুষে না নেয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বছর ঘুরলেই লাগাম ছাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে ভ্যাট ট্যাক্সের পরিমান কিন্তু সেবা মুলক প্রতিষ্ঠানের সেবা যেন কেমল মাত্র কলেজ ক্যাম্পাসে দেয়াল টেনে বাধা পরেছে।সেবা বঞ্চিত ভাতাই যেন নিচ্ছে আর নগরবাসীও যেন নিরুপায় হয়ে তা দিয়ে আসছে প্রতিবাদী ভাষা ভুলে। কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে তাদের কাজ নয় বলে এড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু ভ্যাট ট্যাক্স সেবা না দিয়ে কিভাবে প্রতিনিয়ত বারিয়ে কলেজ থেকে ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা ভোগ করছে তা রয়েছে শিক্ষার্থীদের ও সাধারন জনতার কাছে রয়েছে এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিবছর বিসিসির লাগাম ছাড়া প্রতিনিয়ত ভ্যাট ট্যাক্সের পরিমান বৃদ্ধ করা হলেও তা চুকিয়ে ফল সরুপ সেবা বঞ্চিতর বাস্তব নমুনা বৃষ্টি শেষের তিন চার দিন পরেও বিএম কলেজ ক্যাম্পাসজুরে থাকে বৃস্টির পানিতে থই থই বিলের মত চিত্র দেখা মিলে ।শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড আর বৃহত্তম ঐতিহ্য বাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশায় কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে সংশ্লিষ্ঠরা শতবছরের শুনাম নস্ট হবার আশঙ্কাও করছে সচেতন মহল সহ কলেজ কতৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বি এম কলেজ অধক্ষ্য প্রফেসর স.ম.ইমানুল হাকিম জানান, সামান্য বৃস্টি হলেই গোটা কলেজ ক্যাম্পাস বৃস্টির পানিতে ঢাকা পরে থাকে হাটু পর্যন্ত। অনেক ভবনের নিচ তলায় বৃস্টির পানি প্রবেশে পাঠদানে ঘটছে বিঘ্ন।বৃস্টির পর নগরীর অন্যসব স্থান শুকিয়ে গেলেও কলেজ ক্যাম্পাস নিচু স্তরে থাকার ফলে ৩/৪দিনেও বৃস্টির পানি জমে থেকে জ্বলা বদ্ধতার সৃস্টি হয়ে আসছে,পাঠদানে শিক্ষার্থীদের ঘটছে বিঘ্নতা, ৪/৫ দিন ধরে পানি জমে থেকে জ্বলাবদ্ধতায় মশার বংশবিস্তার করে শিক্ষার্থীরা নানান রোগে অসুস্থ হয়ে পরে ভোগান্তির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৩/৪ দিন জ্বলাবদ্ধতায় মশার উপদ্রবও বাড়ে ব্যাপক ভাবে এতে শিক্ষার্থিদের নানান রোগব্যাধিতে নাকাল অবস্থার স্বীকার হচ্ছে।কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি যোগদান করেই প্রথমে জ্বলাবদ্ধতায় প্রকট আকার ধারন করা এই সমেস্যা দূর করনে বিশেষজ্ঞ দের সাথে সমেস্যা দূর করনের জন্য আলোচনার মাধ্যমে ২কোটি টাকার একটি বাজেট চেয়ে অনুরোধ করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামাল বরাবর, যাতে করে জ্বলাবদ্ধতার সমেস্যা অচিরেই দূর হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মান করে দীর্ঘ পুরনো সমেস্যা দূর করা সম্ভবপর হয়।তাও বিসিসি কতৃপক্ষ বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিয়ে আমলে না নেয়ায় সহসাই শিক্ষার্থীদের সমেস্যা বাড়ছে ছাড়া কমছে না বলে জানায়। এ বিষয়ে বিসিসির মেয়র আহসান হাবীব কামালের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন কল করা হলে তা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার মতামত ও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অপর দিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃওয়াহিদুজ্জামান প্রতিবেদককে জানায়,কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে তাদের কাজ নয়। তবে ঐ এলাকার জনগন ও শিক্ষার্থীদের জ্বলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাতে যাতে না হয় দূর্ভোগ কমানোর জন্য বিসিসির নিজস্ব অর্থায়নে ফান্ড থেকে বাইরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতকরন করনে অচিরে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।ফান্ডের অবস্থা ভাল হলে অচিরেই টেন্ডার আহবান করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতকরনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানায় তিনি।

Top