২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আলোচনা সভা পণ্ড

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দুই বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্কের হিলটন হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রে শুভেচ্ছা জানাতে নিউ ইয়র্কে কর্মসূচিতে যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে প্রবাসে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে এমনই এক কর্মসূচিতে যুবলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির আহ্বায়ক তারিকুল হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও সেবুল মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত ১০টার পর নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষের সময় পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলম এই সংঘর্ষের জন্য তারিকুল হায়দার সমর্থকদের দায়ী করেন।

তিনি বলেন, “যুবলীগের মিছিল ওই এলাকা (৩৭ এভিনিউ এবং ব্রডওয়ে) প্রদক্ষিণকালে তারিকুল হায়দারসহ কয়েকজন হামলা চালালে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতর থেকে মিছিলকারীদের উপর চেয়ার নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। জ্বলন্ত সিগারেটও নিক্ষেপ করা হয় মিছিলকারীদের উদ্দেশে এবং তা জামাল হোসেনের গায়ে লাগে।”

নিউ ইয়র্কের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেছিলেন, “আমরা ভেতরে ছিলাম। বাইরে ওরা গণ্ডগোল করেছে। এর বেশি কিছু জানি না।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইরে সংঘাতের সময় ভেতরে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও লুৎফুল করিম, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া প্রমুখ।

সিদ্দিকুর রহমান বলেছিলেন, “ভেতরে আমরা মিটিং করছিলাম। সে সময় বাইরে থেকে দরজায় ধাক্কা-ধাক্কি করা হয়েছে। দরজার কাঁচ ভেঙে গেছে। এ সংবাদ জেনে পুলিশ এসে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেছিলেন, “নেত্রী আসছেন, এজন্য শো-ডাউনের প্রতিযোগিতায় সামান্য একটু মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এটা কোনো বিষয় নয়। আমরা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে সকলকেই মুক্ত করে আনব।”

বছর তিনেক আগে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে তারিকুল হায়দার চৌধুরীকে আহ্ববায়ক করে ৬০ দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

তারপর এখনও কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ। জামাল-সেবুলের নেতৃত্বে তারা নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন