আজ : রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৭ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার সানী-নাসরিনের মধ্যে সমঝোতার নির্দেশ

সময় : ৭:২২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১০ এপ্রিল, ২০১৭


ঢাকা: জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানীকে তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানার সঙ্গে সমঝোতার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় আরাফাত সানীর এক মাসের জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন শেষ হতে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আজ স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন সানীর আইনজীবী এম. জুয়েল আহম্মদ এবং মুরাদুজ্জামান মুরাদ।

শুনানিতে তারা বলেন, নারী নির্যাতনের মামলায় আরাফাত সানীর জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা আজ তার স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা জানাচ্ছি। দয়া করে আমাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন মামলার বাদী নাসরিন সুলাতানা আদালতে হাজির ছিলেন। এ সময় বিচারক নাসরিনকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনাদের মধ্যে কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না? জবাবে নাসরিন বিচারককে বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি।

এ সময় সানীর আইনজীবী জুয়েল আহম্মদ আদালতকে বলেন, সমঝোতা হয়নি; তবে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে।

এরপর বিচারক নাসরিনকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি তার (আরাফাত সানী) সঙ্গে সংসার করছেন? জবাবে নাসরিন না বলেন।

এরপর বিচারক আরাফাত সানীকে স্থায়ী জামিন না দিয়ে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত আবারো অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে বিচারক ওই তারিখের মধ্যে তাদের সমঝোতার নির্দেশ দেন।

এ মামলায় গত ৯ মার্চ একই আদালত নাসরিন সুলতানার অনাপত্তিতে আরাফাত সানীকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন সানীর স্ত্রী নাসরিন সুলতানা। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলার অভিযোগ মোহাম্মদপুর থানাকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন মীর মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে ঢাকা সিএমএম আদালতে নথি প্রেরণ করেন। এরপর আদালত মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় আরাফাত সানীর মা নার্গিস আক্তারও আসামি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

মামলায় বলা হয়, সাত বছর আগে পরিচয়ের সূত্র ধরে উভয়ের ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে তারা দুজন দুজনকে ভালবাসেন। ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিভাবকদের না জানিয়ে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের তিন বছরেও নাসরিন সুলতানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেননি সানী। বারবার এ বিষয়ে চাপ দিলেও তিনি কালক্ষেপণ করেন।

এর পর গত বছর ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটে নাসরিন সুলতানা (Nasrin Sultana) নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে নাসরিন সুলতানার আসল ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানী-নাসরিনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন নাসরিন সুলতানা। ওই মামলায় সানী রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গত ২২ জানুয়ারি তার মা নার্গিস আক্তার থানার সামনে বাদীকে মারধর করেন। এ বিষয়ে ওই দিন থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন নাসরিন সুলতানা।

প্রসঙ্গত, আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে নাসরিন সুলতানা নারী নির্যাতনের মামলা ছাড়াও যৌতুক আইনে একটি মামলা এবং তথ্য-প্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গত ২২ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। চার্জশিটে আরাফাত সানীর সঙ্গে যে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়েছিলে চার্জশিটে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. ইয়াহিয়া।

Top