আজ : রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৭ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

খাদ্য মজুদ আছে তো খাদ্য কই ?

সময় : ৫:২৪ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১২ এপ্রিল, ২০১৭


সুনামগঞ্জপ্রতিনিধি::সুনামগঞ্জে হাওরপাড়ের কৃষকদের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারছে না ১৫ টাকা

কেজি চাল ও ১৭ টাকা কেজির দরে আটা। খাদ্যের জন্য হাহাকার চলছে। লাইনে

দাঁড়িয়ে চাল আটা নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হয়েছে অনেককে। চাহিদার

তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় লাইন থেকে শত শত মানুষকে বাড়ী ফিরতে দেখা

যাচ্ছে। স্বল্প পরিসরে চাল আটা বিতরণে হাহাকার থামছে না। প্রান্তিক

চাষীদের দোড়গোঁড়ায় এখন পৌঁছেনি স্বল্প মূল্যে খাদ্য সহয়াতা

কর্মসুচি। খাদ্য সংকটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা। খাদ্য মজুদ আছে

পর্যাপ্ত-এই আশার বাণী কৃষকের ক্ষুধা নিবারণে কার্যকরি কোন ভূমিকা

রাখছে না। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের একটাই প্রশ্ন খাদ্য মজুদ আছে

তো খাদ্য কই ? সিংহভাগ কৃষক খাদ্য নিরাপত্তার বাইরে রয়ে গেছেন।

জীবিকার তাগিদে পরিবার পরিজন নিয়ে কাজের সন্ধানে এলাকা ছাড়ছেন

কৃষকেরা। নবান্ন ও বৈশাখী উৎসবের নেই কোন কর্মসুচি। ইতিমধ্যে

উৎসব বাতিলের দাবী জানিয়েছেন পীর মিছবাহ এমপি। এদিকে অর্থ ও

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান খাদ্য নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে দুর্গত

এলাকা ঘোষণার দাবী নাকচ করে দিয়েছেন। দুর্গত ঘোষণা না হওয়ায়

দুর্ভোগ আরো চরমে উঠবে এমনটাই আশংকা হাওরপাড়ের কৃষকদের। তার এ

বক্তব্যের পর দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি আরো জোড়ালো হচ্ছে। এনজিও

ঋণের সাপ্তাহিক তাগাদা কৃষকের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠছে। ঋণের চাপ

থেকে মুক্তির কোন পদক্ষেপ এখনো পরিলক্ষিত হচ্ছে না। চাল, আটার মূল্যে

লেগেছে আগুন। বাজার চলে গেছে নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি

শুনা যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষক জাহির আলী জানান,

সরকার খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলছেন কিন্তু খাদ্যতো পাচ্ছি না। লতিফ নামে

একজন কৃষক জানান, শহর ও সদর উপজেলা কেন্দ্রিক ও এম এস এর চাল আটা

চালু হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছেনি। খাদ্য মজুদ থাকলে এক সাথে

সারা জেলায় ও এম এস প্রকল্প চালু করতে অসুবিধা কোথায় ? খাদ্য অধিদপ্তর

সুত্রে জানা যায়, ১১টি উপজেলায় ১৩৮ জন ও এম এস এর ডিলার নিয়োগ

দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৪২ জন সদর উপজেলা, পৌরসভায় ও এম এস চালু করা

হয়েছে। বাকি ৯৬ জন ডিলার চাল আটা বিক্রির সিদ্ধান্ত না হওয়ায়

ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারছেন না। প্রতি কেজি চাল

১৫ টাকা ও আটা ১৭ টাকা দরে কিনতে পারবেন। একজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি

করে চাল আটা ক্রয় করতে পারবেন। প্রতিজন ডিলার ১টন করে চাল আটা

বিক্রয় করার কথা রয়েছে। জনপদ ঘুরে জানা গেছে এসব বরাদ্দ অপর্যাপ্ত। কারো

হাতে এখন নগদ টাকা নেই। প্রতিদিন ২০০ জনকে ও এম এস এর চাল আটা

বিক্রি করার কথা থাকলেও হাজারো কৃষক জড়ো হন লাইনে। খাদ্যের জন্য শুরু

কাড়াকাড়ি। দীর্ঘ লাইনে নেই কোন শৃঙ্খলা। একই ব্যক্তি দু’বারও চাল আটা

কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। নির্দিষ্ট সংখ্যার বাহিরের লোকজন চাল আটা

না পেয়ে মন খারাপ করে বাড়ি ফিরছেন। পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়িয়ে খাদ্য

নিরাপত্তার কথা বলছেন কৃষকেরা। মাটিয়ান হাওর পাড়ের এক কলেজ ছাত্রী

নুসরাত জাহান জানান, ১৫ টাকার কেজির দরে চাল ও ১৭ টাকা দরে আটা

কেনার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু টাকা কোথায় পাব ? রেশনিং ব্যবস্থা চালু না

করলে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ দোয়ারে হানা দেবে। খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রক আব্দুর রউফ

বলেন খাদ্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সরকারের নিকট সারা জেলায় ডিলারের জন্য

প্রস্তাব পাঠিয়েছি।

Top