আজ : বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

গঙ্গার মতো তিস্তা চুক্তিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করবেন

সময় : ৯:০২ অপরাহ্ণ , তারিখ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৭


ঢাকা : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি করেছেন ঠিক একইভাবে তিস্তা চুক্তিও করবেন।

এ চুক্তি সম্পাদন করা সময়ের ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া এমন মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা ঠিকই সম্পাদন করেছেন।

তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি একধাপ এগিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির মত তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিও শেখ হাসিনা সম্পাদন করবেন।’
ওবায়দুল কাদের আজ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ এমপি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হক সাচ্ছু, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন চৌধুরী।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের জনগণের আবেগ-অনুভূতিকে সম্মান করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দু’দেশের সরকারের সময়ের মধ্যেই তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে ভারত যতদ্রুত সম্ভব এ চুক্তি সম্পাদন করবে ততই দু’দেশের জন্য মঙ্গল হবে। এতে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা পাকিস্তানের কাছে বিবেক বিক্রি করেছে তারাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে দেশ বিক্রি করা হয়েছে বলবে। বিএনপির এসব আবোল তাবোল বক্তব্য দেশবাসী এখন আর বিশ্বাস করেনা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ভারত বিরোধীতা করে সেদেশের কাছ থেকে কোন কিছুই অর্জন করতে পারেনি। কারণ শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে ভালো কোন কিছু অর্জন করা যায় না। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে সব কিছু অর্জন করবে বর্তমান সরকার।
বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে যে ২২ টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন সেগুলো ভালভাবে পড়–ন। এ সকল চুক্তিতে গোপন কিছু নয়। সংবাদপত্রেও ভালোভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সারা দেশের মানুষ পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে সব কিছু জানতে পেরেছে। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই।

তিনি বলেন, এ চুক্তিগুলো আপনারা লাইন বাই লাইন পড়–ন। তারপর যুক্তি সহকারে বলুন কিভাবে দেশ বিক্রি হয়েছে, দেশ বিক্রির দলিলপত্র দেখাতে হবে। আর তা প্রমাণ করতে না পারলে বিএনপি নেত্রী ও নেতাদের জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সীমান্ত চুক্তিকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশ বিরোধী চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪১ বছর পর সে চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন।
কাদের বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বিএনপি-জামায়াত ফেনী থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে বলে প্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু তাদের এ অপপ্রচার হিসেবে দেশের মানুষের কাছে প্রমান হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে যে কোন চুক্তি করে যাব। আর তা নিয়ে কে কি বললো তাতে আমাদের কোন কিছু যায় আসে না।

সেতুমন্ত্রী সকল প্রটোকল ভেঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোয় নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ সম্মান শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়, এ সম্মান পুরো জাতির।

Top