২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার

চাঁদপুরে গ্রাম আদালতে ১৮১৩ মামলা নিষ্পত্তি করে ৬৮,৭৮,১২০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

চাঁদপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮: চাঁদপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ক ত্রৈমাসিক সভা আজ দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চাঁদপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জাতীয় উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো: মাজেদুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মতলব সার্কেল রাজন কুমার দাস।

বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প’ চাঁদপুর এর ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর নিকোলাস বিশ্বাস -এর সঞ্চালনায় ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

গ্রাম আদালত বিষয়ক পরামর্শ সভায় বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প’ চাঁদপুর -এর ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর নিকোলাস বিশ্বাস জানান, চাঁদপুরের ৪৪ গ্রাম আদালতে ১০ ও ২০ টাকা ফি তে জুলাই-২০১৭ হতে আগষ্ট-২০১৮ পর্যন্ত মোট ১৮১৩ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে ১৯৮৫ টি, চলমান আছে ১৭২ টি। এতে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে ৬৮,৭৮,১২০ টাকা। গ্রামের নারী, দরিদ্র ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠী নিজেদের মধ্যকার বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুততম সময়ে, স্বল্প খরচে ও স্বচ্ছতার সাথে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে চাঁদপুরের ৫ উপজেলার ৪৪ ইউনিয়নে চলছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে। এরমধ্যে রয়েছে ফরিদগন্জ, মতলব-উত্তর, মতলব-দক্ষিণ, শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলা।

মাত্র ১০ ও ২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদনকারী (বাদী) ও প্রতিবাদী (বিবাদী) এ আদালতে চুরি, ঝগড়া বিবাদ, কলহ মারামারি, প্রতারণা, হুমকি, নারীর শ্লীলতাহানী, বল প্রয়োগে কাউকে জখম, ইভটিজিং, পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, অবৈধ দখল থেকে সম্পত্তি উদ্ধার, গবাদি পশু চুরি কিংবা মেরে ফেলা, গবাদি পশু কর্তৃক ফসল বিনষ্ট, কৃষক-শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি আদায় সংক্রান্ত ইত্যাদি মামলা ৩ মাসের মধ্যে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে।

সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয় গ্রাম আদালত বিষয়ক বার্তা জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ও উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত বিষয়ক বিশেষ ম্যাসেস-বোর্ড স্থাপন করা হবে। এ ব্যাপারেে উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্যোগী ভূমিকা পালনের আহবান জানানো হয়।

এ সব ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের বিরোধীয় যে ইউনিয়নে মামলা হবে, সে ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করতে পারে। গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান না থাকলেও উভয় পক্ষ প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে।
তবে সভায় জানানো হয় কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি সফলতা আসছে না, সেগুলো হলো ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ গ্রাম আদালতভূক্ত মামলা এলাকায় আইন বহির্ভূতভাবে সালিস করা, প্যানেল চেয়ারম্যানদেরকে গ্রাম আদালত পরিচালনার দ্বায়িত্ব না দেয়া, চেয়ারম্যানগণ নিয়মিত আদালতে না বসা, ৭৫ হাজার টাকার বেশি ক্ষমতা না থাকা।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প’ কমিটির কর্মকর্তারা, উপজেলা পরিষদের সকল চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা সহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ও এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন