আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চামড়ায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করলেই শাস্তি

সময় : ২:২৯ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


পশুর চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত লবণ। নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো লবণের ব্যবহার করায় সংকটের মুখে পরিবেশ। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে চামড়ার মানও। তাই লবণ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে ট্যানারি মালিকদের চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

চিঠিতে বলা হয়, নির্দেশনা পরিপালন না হলে শাস্তি পেতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবেশ সুরক্ষায় লবণের পরিমিত ব্যবহার জরুরী।

পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে, প্রথমেই দরকার লবণ। বড় মাপের একটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য লবণের প্রয়োজন হয় প্রায় দশ কেজি। মাঝারি আকারের চামড়ার জন্য দরকার ছয় থেকে আট কেজি লবণ। কিন্তু বাস্তবে ব্যবহার করা হচ্ছে এর চেয়েও বেশি।

ট্যানারি মালিকদের দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ‘শিল্প কারখানাগুলোতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (ওয়েট ব্লু) সময় লবণের প্রয়োজন হয়। চামড়াতে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহারের ফলে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত লবণ ট্যানারি বর্জ্যের সাথে মিশ্রিত থাকায় পরিশোধিত ইনফ্লুয়েন্টের মধ্যে লবণের মাত্রা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েট ব্লু কার্যক্রমে ট্যানিং প্রসেসের সময় চামড়া হতে লবণ হ্রাসকরণ জরুরী’।

এতে আরো বলা হয়, ‘অধিকাংশ ট্যানারি শিল্প পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানেই লবণ হ্রাসকরণের কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে লবণ হ্রাসকরণে ম্যানুয়াল ডি-সলটিং মেশিন স্থাপন করে লবণের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব। এছাড়া শুধু লবনযুক্ত কাঁচা চামড়া ড্রামে দেয়ার আগে ঝেড়ে বা অন্য কোনো স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করেও লবণের পরিমাণ হ্রাস করা সম্ভব।

এর আগে প্রতিটি ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২৫ মিলিমিটারের বার স্ক্রিন এবং ১২ মিলিমিটার, ৬মিলিমিটার ফাইন স্ক্রিন ব্যবহারের মৌখিক নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সেটা পরিপালন করেনি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, যে সব প্রতিষ্ঠান লবণ হ্রাসের কোনো পদ্ধতি এবং বার স্ক্রিন ও ফাইন স্ক্রিন সঠিক মাপে ব্যবহার করবে না তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, লবণ পরিমাপ করার মতো কোনো যন্ত্র নেই। চামড়ার ব্যপ্তি দেখে চামড়ায় লবণ মেশায় শ্রমিকরা। শ্রমিকরাও লবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি পরিমাণ লবণ ব্যবহার হবে তার কোনো কৌশল তুলে ধরতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ফুটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অমল কান্তি দেব বলেন, লবণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরী। এখন চামড়ায় যে লবণ ব্যবহার হচ্ছে তার ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অতিরিক্ত লবণ মাটিতে পড়ে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করছে। পাশাপাশি পানিতে লবণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা মানব দেহের জন্য হুমকি।

Top