২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ তে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়ে কার্যকর হলো।
আজ সোমবার (৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংসদের গত অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। পরে গেলো সপ্তাহে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে পাস হওয়া বিলগুলো সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান।
সংবিধান অনুযায়ী কোনও বিল সংসদে গৃহীত হলে তা সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করতে হয়। ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ওই বিলে সম্মতি দেবেন। অবশ্য রাষ্ট্রপতি চাইলে পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনীর বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন।
গত অধিবেশনে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সদস্যরা। কিন্ত তাদের সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলে বিধান করা হয় যে, এর কোনও বিধানের সাথে অন্য কোনও আইনের কোনও বিধান অসামঞ্জস্য হয়, তাহলে অন্য কোনও আইনের বিধানের সাথে যতটুকু অসামঞ্জস্য হয় ততটুকুর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিলের বিধান কার্যকর হবে।
বিলে বিধান করা হয় যে, কোনও ব্যক্তি দেশের বাইরে বিলের বিধানের অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করলে তা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
বিলে বিধান করা হয়, কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে থেকে দেশে অবস্থিত কোনও কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাহায্যে দেশের অভ্যন্তরে প্রস্তাবিত বিধানের অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করলে ওই অপরাধ দেশে সংঘটিত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে দেশের বাইরে এ বিধানের অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন তাহলে সে অপরাধের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেশে সংঘটিত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
বিলে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনের বিধান করা হয়েছে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় এবং প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে দেশের যেকোনো স্থানে এর শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধান করা হয়।
বিলে এজেন্সির মহাপরিচালক নিয়োগ ও তার দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা এবং জনবল কাঠামোসহ অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা হয়েছে।
বিলে বিধান করা হয়, মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনও বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে তিনি ওই তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমতে, ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনুরোধ করতে পারবেন।
বিলে বিধান করা হয়, যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনও তথ্য-উপাত্ত দেশের বা এর কোনও অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার জন্য বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবেন।
বিলে বিধান করা হয়, সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য এজেন্সির অধীন একটি জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম থাকবে। বিলে এ টিমের কার্যক্রম, দায়িত্ব, ক্ষমতা ইত্যাদির বিধান করা হয়।
বিলে একাধিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এর মাননিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিধান করা হয়।
বিলে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বিলে কাউন্সিলের ক্ষমতা, দায়িত্ব, সভা অনুষ্ঠান ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়।
বিলে বিধান করা হয় যে, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনও কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।
বিলে বিধান করা হয় যে, মহাপরিচালক এ আইনের বিধানাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো পরিবীক্ষণ ও পরিদর্শন করবেন এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করবেন।
বিলে সাইবার বা ডিজিটাল অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট দণ্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের বিধান লংঘনজনিত এ অপরাধের জন্য ধরন বিশেষে ১, ৩, ৫, ৬, ৭, ১৪ বছর ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ, ৫ লাখ ১০ লাখ ২৫ লাখ ১ কোটি, ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন