১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, শনিবার

তাহলে আ. লীগের নিবন্ধন আগেই বাতিল হওয়া উচিত ছিল

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা রায়ের পর বিএনপির আর নিবন্ধন থাকতে পারে না’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘তাহলে তো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক আগেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ছিল।’

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ‘জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল’ আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা কোনো হত্যাকাণ্ডকেই সমর্থন করি না। অতীতে রমনার বটমূলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেনি? পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেনি? এসব ঘটনার জন্য তাহলে অনেক আগেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ছিল।’

২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে কেউ ন্যায়বিচার আশা করে না। যে দেশে প্রধান বিচারপতি নিজে বিচার পাননি, সে দেশে অন্য নাগরিকরা সুবিচার পাবেন- এটা আশা করা অত্যন্ত কষ্টকর। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তাঁর বইয়ে লিখেছেন, যে দেশে আমি প্রধান বিচারপতি হয়ে বিচার পাইনি, সে দেশে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে সেটা আমি আশা করি না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিষয়েও তাই হয়েছে।’

‘শুধু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মামলা দেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মাইনাস করা এবং বর্তমানে যারা বিনা ভোটে গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা। মূলত সরকারের অলিখিত বাকশালকে প্রতিষ্ঠা করতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ভূতুড়ে মামালা দেওয়া হচ্ছে’ বলেন খন্দকার মোশাররফ।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না জানিয়ে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘জনগণের মধ্যে আওয়াজ উঠেছে এই স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের মানুষ নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে যে, খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন হবে না এবং জাতীয় ঐক্য ছাড়া জনগণকে এই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।’

খুব শিগগির জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। অতি শিগগির জাতীয় ঐক্যের রূপরেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবেন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন