আজ : রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং | ১৭ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তিস্তা পাড়ে হতাশা……..

সময় : ৭:৫০ অপরাহ্ণ , তারিখ : ১০ এপ্রিল, ২০১৭


আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট:শেখ হাসিনার সরকার ভারতের সাথে সফলতা নিয়ে সব চুক্তি করে বিশ্বে

ইতিহাস সৃষ্টি করলেও আজ কাল করে বছরের পর বছর পার হচ্ছে কিন্তু তিস্তা

চুক্তি হচ্ছে না। পানির অভাবে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প থেকে রংপুর-

দিনাজপুরকে বাদ দেয়া হয়েছে। তারপরও পানি সংকট কাটছে না। আশা

করেছিলাম এবার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তার পানি চুক্তি হবে।

কিন্তু টিভি’র খবরে শুনলাম এবারও তিস্তার পানি চুক্তি হচ্ছে না। আর কত

দিন অপেক্ষা করতে হবে তিস্তার পানি চুক্তির জন্য ? এভাবেই হতাশার সুরে

কথা গুলো বললেন তিস্তা পাড়ের স্কুল শিক্ষক ও কৃষক সফিয়ার রহমান। তিনি

আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এবারও তিস্তার পানি

চুক্তি হচ্ছে না এমন খরবে তিস্তা নদীর তীরবর্তী লোকজনের মাঝে চরম

হতাশা বিরাজ করছে।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সুত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে এই মৌসুমে

নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৬৫ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা

প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেচ দেয়া হয় মাত্র ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৫

ও ২০১৬ সালে সেচ প্রদান করা হয় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। তিস্তা নদীর

পানিপ্রবাহ দিন দিন কমতে থাকায় এবার মাত্র ৮ হাজার হেক্টর জমিতে

সেচ প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দিনাজপুর ও রংপুরের

কমান্ড এলাকা সেচ কার্যক্রম থেকে বাদ দিয়ে শুধু নীলফামারী জেলার

ডিমলা, জলঢাকা, নীলফামারী সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে সেচের

আওতায় রাখা হয়েছে।

তিস্তা পাড়ের কৃষক আব্দুস ছামাদ, মমিনুল হক বলেন, এখন তিস্তায়

পানি নেই। তাই সেচ প্রকল্পের সেচের আশা বাদ দিয়ে নিজেরা

সেচযন্ত্র (শ্যালো) ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ সেচ

প্রকল্পের জন্য ১০ হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন, সেখানে ইরি-

বোরো আবাদের পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪০০ কিউসেক। তিস্তায় পানি

সংকটের কারণে বোরো আবাদি কৃষকরা ব্যাপক উদ্বিগ্ন হয়ে

পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া-দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলাী

মোস্তফিজুর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তা পানিবণ্টন

চুক্তির জটিলতার ফলে পানি সংকটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক-কৃষি

উন্নয়নে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি

প্রবাহ কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা অনেকটা

হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান জীবিকা

কৃষিকাজে পড়ছে মারাত্মক প্রভাব। পরিবেশগত প্রভাবের কারণে এ

পরিস্থিতি দিন-দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ‘প্রতিবেশী প্রথম’ এ নীতিতে বিশ্বাসী ভারতের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সফরে

দুই দেশের মধ্যকার ৪১ বছরের পুরোনো সীমান্ত সমস্যা সমাধান হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত সফরের

সময় একই ধরনের ঐতিহাসিক তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি হবে বলে

প্রত্যাশা ছিলো। তবে ওই চুক্তি ভারতের রাজ্য সরকার পর্যায়ে আটকে

যায়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের

ঢাকা সফরের সময় বহু আলোচিত এ চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে শেষ মুহূর্তে তা আটকে

যায়। চুক্তিটি না হওয়ায় বাংলাদেশের হতাশার কথা দিল্লিকে বেশ স্পষ্টই

জানিয়ে দেয়া হয় ওই সময়। হতাশা প্রকাশ করেন মনমোহন সিংও।

মমতাকে রাজি করাতে এরপর দিল্লির পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা

হয়। দীপু মনি নিজেও কলকাতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

কিন্তু তিস্তা চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে অনড় থাকেন

মমতা। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত

সফরের প্রেক্ষিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের

সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় চুক্তি

স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও নেয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভারতের অভ্যন্তরীণ

রাজনৈতিক জটিলতার কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে

চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত

সফরে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা

বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত হলো ।

Top