১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, শনিবার

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ওবায়দুল কাদের

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপ-কমিটির এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
(প্রিয়.কম) দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

৮ অক্টোবর, সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপ-কমিটির এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই আইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই সরকারকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।’ এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই আইনটা কেন করা হলো? মনে আছে গুজব সন্ত্রাসের কথা। ফেসবুকে লাইভ পোস্টে কালো কাপড়ে মুখ পেঁচিয়ে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ অফিসে তাদের রেইপ করেছে, একজন চিত্র নায়িকাও ছিল, পরে তারা গ্রেফতার হয়েছে।’

কাদের বলেন, ‘এসব নাটক সাজিয়েছে তারা, গুজব সন্ত্রাস এখন আন্দোলনের চেয়েও ভয়াবহ এবং সেই কাজটি বিএনপি করে যাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালাল, তখন এই পোস্ট দেওয়া হলো। দেশে একটা সরকার আছে, তারা ক্রাইম করতে থাকবে আর আমরা দুষ্টকে দমন করব না? এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এখন ডিজিটাল ক্রাইমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি থাকবে না? তাহলে দেশে কী হবে, অরাজকতা।’

সরকার এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালাচ্ছে- বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটাও আরেকটা অপপ্রচার। শালীনতা বলতে এই দলের আর কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নয়া পল্টনের অফিসে বসে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে, এই যে এইচ টি ইমাম সাহেব এখানে বসা ওনাকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। তারপরেও তো পুলিশ তাদের ধরছে না। এসব কথা তারা অহরহ বলছে।’

সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচিতে নামতে একমত হওয়ার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পানি আর তেলে মেশে না, এই জগাখিচুড়ি ঐক্যের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ১০ বছরে যারা ১০ মিনিটও রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি, তারা আন্দোলন করবে, এটা হাস্যকর। কাদের নিয়ে আন্দোলন করবে, দেশের জনগণ? জনগণ কেন আসবে? আন্দোলনের কোনো অবজেক্টিভ কনন্ডিশান দেশে নেই।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার পরিবর্তন বলছেন তো? নির্বাচন ছাড়া এই দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না। এই স্বপ্ন দেখতে পারেন, ক্ষমতার সেই ময়ূর সিংহাসনের জন্য, সেই রঙিন খোয়াব অক্টোবর গেলে টের পাবেন, অচিরেই কর্পুরের মতো উবে যাবে।’

পরিবহনকর্মীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘পরিবহন আইনের জন্য তিন বছর আমরা সময় নিয়েছি। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে, এখন আইনটি পাস হয়েছে। এখন আবার ধর্মঘট।’

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারা বসেছেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, যদি বিধি প্রণয়ন করে কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাদের জন্য আমরা করব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো শ্রমিক বান্ধব সরকার, সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার দল আমরা না। এটা আমরা সময় মতো দেখব। তবে তাদের এখন ধর্মঘটটা প্রত্যাহার করতে হবে, ধর্মঘট প্রত্যাহার করুন।’

আওয়ামী লীগ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বাংলাদেশ ব্যংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন