আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দেশের প্রয়োজনে দেশেই মেধা সৃষ্টি করছি

সময় : ৭:২১ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২২ মার্চ, ২০১৭


দেশের প্রয়োজনে দেশেই মেধা সৃষ্টি করছি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা নিজেদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করতে যাচ্ছি, বিশাল সমুদ্র সম্পদ সুরক্ষা আমাদেরই করতে হবে। আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি, গড়ে তুলছি নিজেদের বিদ্যুৎ প্রকল্প। আর এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন মেধাবী, দক্ষ, প্রশিক্ষিত জনশক্তি। যা আমরা নিজেরাই উৎপাদন করছি।

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমশনের প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৩-১৪ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে যে দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনশক্তি দরকার তা দেশেই সৃষ্টি করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। বিশ্ব আজ এগিয়ে চলেছে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে চলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষার উন্নয়নে নেয়া উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার দেখানো পথেই আমরা আমাদের শিক্ষার বিস্তার করে চলেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দিকে নজর দেয়নি। তারা নিজেদের স্বার্থে কাজ করেছে। তখন শিক্ষাক্ষেত্রও অনেক পিছিয়ে পড়ে। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় এসে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করি।

তিনি বলেন, সেশন জোট কমিয়েছি। লেখাপড়ার মান উন্নয়নে কাজ করছি। আমরা ক্ষমতায় এসে সার্ভে করি, কোথায় স্কুল নেই। যেসব জায়গায় স্কুল ছিল না সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করি। আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষায় এক সময় অনীহা ছিল। এ কারণে আমরা ১২টি বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষাখাতে বেশি ব্যয় করছি। অবশ্য এটাকে আমরা ব্যয় মনে করছি না, বিনিয়োগ মনে করছি। তবে শিক্ষাকে কীভাবে দেশের মানুষের কাজে লাগানো যায় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেদিকে সর্তক থাকতে হবে। তারা যাতে ধর্মান্ধ না হয়ে যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। জাতিকে গড়ে তোলার বিরাট দায়িত্ব শিক্ষকদের। আপনারাই মানুষ গড়ার করিগর।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও উদ্বোধনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে। কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন করতে হবে। তোমরা আগামী দিনের সোনার বাংলাদেশ গড়তে নেতৃত্ব দেবে। মনে রাখতে হবে- এই দেশ স্বাধীন দেশ। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমরা আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যানগণ, ইউজিসির বর্তমান ও সাবেক সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা এবং ইউজিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Top