আজ : সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দেশে পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলছে

সময় : ১০:০১ পূর্বাহ্ণ , তারিখ : ২১ মার্চ, ২০১৭


অবশেষে পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলছে বাংলাদেশে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের হাত ধরে কাজ শুরু করছে আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাটি। সোনালী ব্যাংককে অনুমোদন দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়।

তবে অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, এখন সরাসরি পেপ্যাল নয়, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চালু হচ্ছে জুমের সেবা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেপ্যালের সেবা চালুর অনুমোদন দিলেও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি সেবা কার্যক্রম হবে জুমের।

উল্লেখ্য, জুমের আর্থিক লেনদেন সেবা বাংলাদেশে চালু আছে অনেক দিন হতেই। তবে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিতে জুমের সেবার পরিধি ঠিক কতটুকু আর কীভাবে বাড়বে তা জানা যায়নি। তবে ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে সরাসরি পেপ্যালকে চেয়ে আসছেন সেভাবে চালুর বিষয়টি এই পেপ্যাল-সোনালী ব্যাংক চুক্তির সঙ্গে আপাতত সম্পর্কিত নয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। অবশ্য পেপ্যালের সঙ্গে কার্যক্রম শুরুর এই অনুমতি অদূর ভবিষ্যতে সরাসরি পেপ্যাল সুবিধা চালুর জন্য একটি মাইলফলক অগ্রগতি। ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ দিনের আশা, ভারতে পেপ্যাল যেভাবে ফ্রিল্যান্সারদের টাকা দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠায় সেভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররাও সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেপ্যাল লেনদেন করতে পারবেন।

পেপ্যাল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে যে এমওইউ স্বাক্ষর করে তা জুম সেবা চালুর জন্য। ওই এমওইউ অনুয়ায়ী সেখানে শুধু রেমিট্যান্স সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আর সেটিই নানা পর্যবেক্ষণ শেষে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তথপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাতকারে একটি অনলাইনকে জানান, ‘পেপ্যাল নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে আবারও সিলিকন ভ্যালিতে যাচ্ছি।’ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেপ্যাল নিয়ে সুখবর দেয়ার আশাবাদ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পেপ্যাল হচ্ছে অনলাইনে লেনদেনের একটি আন্তর্জাতিক মাধ্যম। দেশের বাইরে থেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত রেমিটেন্স দেশে আনতে এ সেবাটি কার্যকর। এটি চালু হলে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান রেমিটেন্সের অর্থ পেপ্যালের ওয়ালেটে ট্রান্সফার করবে। যা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নগদ টাকায় রূপান্তর করা যাবে। পার্শ্ববর্তী দেশসহ এশিয়ার সবগুলো দেশে এ সেবা থাকলেও এতদিন বাংলাদেশ ছিল না।

সোনালী ব্যাংকের রেমিটেন্স ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ নওয়াব হোসেন বলেন, পেপ্যাল সেবা চালুর জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি পেয়েছি। এখন পেপ্যালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী এপ্রিল মাসের শেষের দিকে সাধারণ মানুষ এই সেবা পাবেন বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, এখন সোনালী ব্যাংকের আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা সফটওয়্যারের উন্নয়ন এবং পেপ্যালের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, খুব সম্ভবত আমেরিকাতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তিটি হবে। প্রসঙ্গত, পেপ্যালের সাহায্যে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সাহায্যে বিশ্বব্যাপী ফান্ড ও রেমিটেন্স ট্রান্সফার করতে পারবেন এর সেবাগ্রহীতারা। এর ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও কোন ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

উল্লেখ্য, পেপ্যাল সেবাটি বাংলাদেশে কার্যকর জন্য দীর্ঘদিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল আইটি সেক্টর ও ই-কর্মাস ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তবে নীতিগত অনুমোদন, নিরাপত্তা ভাবনাসহ নানা কারণে সেবাটি কার্যকরে সময়ক্ষেপণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Top